ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় একটি বাজার এলাকার দোকানপাট ও বিএনপি কার্যালয়ের শাটারে রাজনৈতিক স্লোগান ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার (৭ জুন, ২০২৬) উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় দিনভর এই রাজনৈতিক অস্থিরতা চলে। এই ঘটনার জেরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে এই ঘটনায় সোমবার (৮ জুন) মনপুরা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ ওই ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় এবং বিচারকের নির্দেশে তাঁকে ভোলা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া ওই ছাত্রলীগ কর্মীর নাম শফিক মির, যিনি দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হারুন মিরের ছেলে। সোমবার দুপুরে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নূরনবী ছৈয়াল বাদী হয়ে শফিক মিরসহ মোট ৬ জনকে নামীয় আসামি করে মনপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন—মো. শামীম, শাকিল, গিয়াস উদ্দিন, শিপন ও মালেক। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ হেফাজত থেকে শফিককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে দুপুর ২টায় বিজ্ঞ বিচারক তাঁকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এদিকে ঘটনার সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন—২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা লোকমান ছৈয়াল এবং মামলার বাদী নূরনবী ছৈয়াল। নূরনবীর অভিযোগ, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী শফিক মিরের নেতৃত্বে একদল যুবক রাজনৈতিক উসকানি দিতে শাটারে স্লোগান লেখে এবং বাধা দেওয়ায় তাঁর ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। তবে ঘটনার সময় নিজেদের লাঠির আঘাতে যুবদল নেতা লোকমান ছৈয়াল মাথায় গুরুতর আঘাত পান বলে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, এই মারধর ও মামলার ঘটনাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ কর্মীর পরিবার ও স্থানীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছাত্রলীগ নেতা দাবি করেন, শাটারে বা দেওয়ালে স্লোগান লেখার সাথে ছাত্রলীগের কোনো স্তরের নেতাকর্মী জড়িত নন। কোনো গোপন বা নিষিদ্ধ সংগঠন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে এই কাজ করে ছাত্রলীগের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আসামির পরিবারের অভিযোগ, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নিজেদের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও লাঠালাঠিতে তাদের দলীয় নেতা আহত হলেও, উল্টো বিনাদোষে শফিককে পিটিয়ে পুলিশে দিয়ে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।



