― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্যের লড়াইয়ে টেঁটা-বল্লম নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত ১০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামে মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই চার ঘণ্টাব্যাপী রণক্ষেত্রে টেঁটা, বল্লম, দা ও লাঠিসোঁটার অবাধ ব্যবহারে অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালীন স্থানীয় টিয়ারা বাজারের বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যার ফলে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে প্রাণভয়ে আত্মগোপন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টিয়ারা গ্রামে নিজেদের সামাজিক আধিপত্য ধরে রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী আতিকুর রহমান ওরফে শিশু মিয়া এবং একই গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈরিতা চলে আসছিল। এই পারষ্পরিক বিরোধের ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছির মিয়ার বসতবাড়িতে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা প্রথম দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওই রাতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার ভোর থেকেই দুই পক্ষের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাজারের উন্মুক্ত চত্বরে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং যত্রতত্র ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

মুহুর্মুহু ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টেঁটাবিদ্ধ করার এই নারকীয় তাণ্ডব সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশের একটি বড় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে শটগানের ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের যারা আহত হয়েছেন, তাদের উদ্ধার করে দ্রুত নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো টিয়ারা গ্রাম।

এই সহিংসতার বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের পক্ষের সমর্থক আহমেদ হোসেন অভিযোগ করে জানান, সকালে আতিকুর রহমানের লোকজন সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে বাজারে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অন্যদিকে, আতিকুর রহমান ও আবুল হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও রক্তপাত এড়াতে টিয়ারা গ্রাম এবং বাজার এলাকায় অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিতে অভিযান চলছে।