― Advertisement ―

কাকরোজ জনতা পার্টির জয়: তোপের মুখে ইস্তফা দিলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া টানা বিক্ষোভের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। নতুন দিল্লিতে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে শনিবার নিজের পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠান তিনি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে আলোচনার পর বিক্ষোভকারী তরুণদের সংগঠন ‘কাকরোজ জনতা পার্টি’ (সিজিপি) তাদের আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে ভারতের ছাত্র ও প্রগতিশীল তরুণ সমাজের বড় ধরনের ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই ছাত্র বিক্ষোভ দমনে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও আন্দোলন আরও বেগবান হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় জানান, দেশের তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং দেশবিরোধী শক্তি যাতে এই সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্যই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগের পরপরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে ও মিষ্টি বিতরণ করে উদযাপনে মেতে ওঠেন।

ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র জানান, মন্ত্রীর অপসারণ ছাড়া বাকি দুটি মূল দাবি—পরীক্ষা পুনঃগ্রহণের কারণে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার শর্ত সরকার মেনে নিয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের চাকরির সংকট, সরকারি দুর্নীতি ও জবাবদিহিতাহীনতার যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল, তা এই ব্যতিক্রমী আন্দোলনের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ নেয়।

নিরাপত্তা বাহিনী দমন-পীড়ন চালিয়ে আন্দোলন নস্যাৎ করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থানের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সরকার। সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকসহ প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেতারা এই পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একইসাথে, আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা।