মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও শক্তিশালী রাডার স্টেশন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির বরাত দিয়ে আজ মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং’ (আইআরআইবি) এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, বাহরাইনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুহাররাক এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট রাডার স্টেশনের ওপর সুনির্দিষ্ট নিশানা বানিয়ে সফল হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় ওই স্টেশনের রাডার সরঞ্জামসমূহ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আরও দাবি করেছে যে, বাহরাইনের আল-রিফফা এলাকায় একটি সুনির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত নিখুঁত সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালিত হয়। এই হামলায় মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহৃত একটি পেট্রিয়ট (Patriot) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অকেজো ও ধ্বংস হয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বহুজাতিক সামরিক শক্তিমত্তার বিরুদ্ধে তেহরানের এই আঘাতকে এক বিশাল কৌশলগত ও সামরিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে আইআরজিসি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্র বাহিনীর প্রধান প্রতিরক্ষামূলক বলয় হিসেবে পরিচিত পেট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম ধ্বংসের এ ঘটনা ওই অঞ্চলের সার্বিক সামরিক ভারসাম্যে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে বাহরাইন অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর (US Fifth Fleet) এবং বিভিন্ন বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা পরিচালিত হয়ে আসছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, বাহরাইনের মার্কিন সামরিক পয়েন্টগুলোতে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অঞ্চলটিতে পরবর্তীতে ইরানের আরও বড় আকারের কৌশলগত সামরিক অভিযান পরিচালনার পথ সুগম ও ঝুঁকিমুক্ত করা। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সুরক্ষাবলয় ভেঙে আগামীতে আরও আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট সংকেত দিয়ে রাখা হলো বলে সতর্ক করেছে তেহরান।
তবে ইরানের এই দাবির প্রেক্ষিতে বাহরাইন সরকার কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম/CENTCOM)-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পুরো অঞ্চলে এখন তীব্র সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।



