সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেই মূল বিরোধ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা শুরু করা, তা এখন ভেঙে পড়ার মুখে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, “যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।” অন্যদিকে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণে এমওইউ-এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
এমওইউ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ইরানের ওপর আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানি অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ইরানের জব্দ থাকা কিছু অর্থ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং জর্ডানে হামলা চালায়।
নতুন করে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এমওইউ-এর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ। এতে ইরানকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এই শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইরান নিজ উপকূলঘেঁষা একটি নতুন নৌপথ নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনী ওমান উপকূলসংলগ্ন একটি বিকল্প নৌপথ নিরাপদ ঘোষণা করেছে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ সমঝোতার ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন এবং এটি হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করার চেষ্টা।



