― Advertisement ―

স্পেনের সাথে সব বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের

আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করে স্পেনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের রাজধানীতে আয়োজিত ন্যাটোর এই আন্তর্জাতিক আসরে ট্রাম্প স্পেনের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থমন্ত্রী) স্কট বেসেন্টকে অনতিবিলম্বে মাদ্রিদের সাথে সব ধরনের বাণিজ্যিক চ্যানেল স্থগিত করার নির্দেশ দেন। একই সাথে তিনি আটলান্টিক জোটের অন্যতম শরিক স্পেনকে একটি ‘ভয়াবহ ও অকেজো অংশীদার’ হিসেবে আখ্যা দেন।

এই চরম কূটনৈতিক পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হিসেবে রয়েছে ইরান যুদ্ধের সময় স্পেনের নেওয়া স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। গত মার্চ মাসে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় স্পেন তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারে ওয়াশিংটনকে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি মার্কিন যুদ্ধবিমানের ট্রানজিটের জন্য নিজেদের আকাশসীমাও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় মাদ্রিদের সমাজতান্ত্রিক সরকার। ট্রাম্পের অভিযোগ, স্পেন ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন করছে না এবং সংকটের সময়েও ওয়াশিংটনকে প্রয়োজনীয় সামরিক প্রটোকল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের সাথে হওয়া পূর্বের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা চুক্তিটি সম্পূর্ণ ‘ভেঙে গেছে’ বলে ঘোষণা করেন। মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযান যে আরও জোরদার হচ্ছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) সাম্প্রতিক বিবৃতিতে। সেন্টকম নিশ্চিত করেছে, তাদের সর্বশেষ বিমান হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ ৮০টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে তেহরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) ৬০টিরও বেশি সশস্ত্র স্পিডবোট ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী।

মার্কিন সামরিক কমান্ডের দাবি, গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি মালবাহী জাহাজে ইরানের নৌ-হামলার জবাবেই এই বিশাল পালটা আকাশ অভিযান চালানো হয়েছে। এই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা নিয়ে তেহরান এখনো প্রাতিষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি নিশ্চিত করেছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে দফায় দফায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।