আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকিকে শপথ পড়ানো হয়। এরপর গভীর রাতে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগামী ৫ মার্চ ২০২৬-এ নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট পৌডেল।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট প্রতিনিধি সভা বিলুপ্ত করেছেন এবং ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।’

নেপালের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারত এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রশংসা করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স এ লিখেছেন, ‘নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মাননীয় সুশীলা কারকি জিকে আন্তরিক অভিনন্দন। নেপালের ভাই-বোনদের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এদিকে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, রেডিট ও এক্সে ভাইরাল হয়েছে এমন ভিডিও ও পোস্ট যেখানে নেপালের রাজনৈতিক নেতাদের সন্তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন সাধারণ নেপালিদের দুঃসহ জীবনযাত্রার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
‘পলিটিশিয়ান্স নেপো বেবি নেপাল’ ও ‘নেপো বেবিস’ হ্যাশট্যাগ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে।

হিমালয়ের দেশ নেপাল ৩ কোটির বেশি জনসংখ্যা নিয়ে শুক্রবার থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। দোকানপাট খুলেছে, সড়কে গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে, এবং পুলিশ সদস্যরা সাপ্তাহিক সহিংসতা দমনকালে ব্যবহার করা আগ্নেয়াস্ত্রের পরিবর্তে আবার ব্যাটন হাতে নিয়েছে।
২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর থেকে নেপাল ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছে। কাজের অভাবে লাখ লাখ তরুণ মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছেন।
সূত্র : রয়টার্স



