গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের খেসারত হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মাথার দাম প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলার নির্ধারণের ঐতিহাসিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টে বর্তমানে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ’ শীর্ষক একটি বিশেষ বিলের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। এই বিলটি পাস হলে ট্রাম্প কিংবা নেতানিয়াহুকে হত্যাকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭১৪ কোটি টাকা) রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দেওয়া হবে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এবং কমিশনের অন্যতম নীতিনির্ধারক মাহমুদ নাবাবিয়ান পার্লামেন্টের এই আইনি তোড়জোড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনি হত্যার পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সরাসরি দায়ী। তাই তাঁদের অবশ্যই ইরানের সামরিক বাহিনীর ‘মুখোমুখি সংঘাত ও বিধ্বংসী পাল্টা পদক্ষেপের’ মুখোমুখি হতে হবে। একই সাথে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নিরাপত্তার ওপর আঘাত এলে তার জবাব কঠোর হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ায় হত্যার এই পুরস্কার ঘোষণা মূলত চিরবৈরী এই পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির এক নতুন ও বিপজ্জনক ধাপ। এর আগে তেহরানের পক্ষ থেকে পশ্চিমা নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া প্রাণনাশের হুমকিগুলো কেবল ধর্মীয় ফতোয়া বা রাজনৈতিক বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এবারই প্রথম তা আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় আইন বা সংসদীয় বিলে রূপ পাচ্ছে। এর বিপরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানোর চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার’ জন্য খুব কঠোর সামরিক নির্দেশ জারি করবে। সরকারি এই উদ্যোগের পাশাপাশি ইরানের ‘ব্লাড কভেন্যান্ট’ নামক একটি বেসরকারি তহবিল ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে।
ভয়াবহ এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, ইরান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, তেহরানের এই প্রস্তাবটি তাদের আগের অনমনীয় অবস্থানের চেয়ে খুব একটা উন্নত বা তাৎপর্যপূর্ণ নয়। মার্কিন ওই কর্মকর্তা আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, হোয়াইট হাউস ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে একটি চূড়ান্ত আলোচনা দেখতে চায়। তেহরান যদি কূটনৈতিক টেবিলে ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে ওয়াশিংটনকে ‘বোমার মাধ্যমে কথা বলতে হবে’, যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এক যুদ্ধ ডেকে আনবে।



