― Advertisement ―

যুদ্ধ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার দিন শেষ? ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিল সিনেটে পাস

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিল থেকে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক নাটকীয়তার খবর সামনে এসেছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান চালানো থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখতে এবং মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেট মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) একটি বিশেষ বিলের অগ্রগতির পক্ষে ভোট দিয়েছে। এই ভোটাভুটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিমালার বিরুদ্ধে খোদ তাঁর নিজের দল রিপাবলিকানের ভেতরেই একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ফাটল ও ভাঙনের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক স্থাপনা বা লক্ষ্যবস্তুতে আকস্মিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট সদস্যরা আইনসভায় তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটররা বারবার ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজুলেশন’ বা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব’ সিনেটে উত্থাপন করে আসছিলেন। এই আইনি প্রস্তাবের মূল দাবি হলো— মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া হোয়াইট হাউস একক সিদ্ধান্তে কোনো যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারবে না এবং অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

এতদিন পর্যন্ত রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন সিনেটে দলীয় কোন্দল ও কৌশলগত ভোটে ডেমোক্র্যাটদের এই যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাবগুলো বারবার আটকে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি নাটকীয়ভাবে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিলটির পক্ষে ভোট দিলে পুরো সমীকরণ বদলে যায়। বিল ক্যাসিডির এই একটিমাত্র দলছুট ও নীতিগত সিদ্ধান্তই মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বিরুদ্ধে বিলটি পরবর্তী ধাপের জন্য অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটর বিল ক্যাসিডির এই অবস্থান বদলের পেছনে আদর্শিক লড়াইয়ের চেয়েও অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল ও প্রতিশোধের রাজনীতি বড় ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রাইমারি নির্বাচনে সিনেটর ক্যাসিডি পরাজিত হন, যেখানে তাঁর দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ও জোরালোভাবে সমর্থন দিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই ট্রাম্প ও ক্যাসিডির মধ্যকার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দূরত্ব চরমে পৌঁছায়, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটল ইরানের যুদ্ধবিরোধী এই বিলের ঐতিহাসিক ভোটাভুটিতে। বিলটি এখন সিনেটের পূর্ণাঙ্গ টেবিলে চূড়ান্ত আলোচনার পর পাসের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে (House of Representatives) পাঠানো হবে।