দেশের সড়কগুলোতে মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামছে না। সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে সারা দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৫৬১ জন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৫৬টি শিশু রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, মোট নিহতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন মোটরসাইকেলের চালক কিংবা আরোহী।
আজ রোববার (৫ জুলাই, ২০২৬) সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’ তাদের সর্বশেষ মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয়, আঞ্চলিক ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংস্থাটির নিজস্ব ডেটাবেজের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী মাসে দেশে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন আরোহী নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৩১ শতাংশ। এছাড়া সাধারণ পথচারী হিসেবে রাস্তা পারাপার বা হাঁটার সময় বিএসএফ বা অন্য কোনো বাহনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯১ জন এবং বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন।
যানবাহনভিত্তিক অন্যান্য পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, থ্রি-হুইলার বা ইজিবাইক ও সিএনজি দুর্ঘটনায় ১১২ জন যাত্রী মারা গেছেন। বাসের যাত্রী নিহত হয়েছেন ২৭ জন এবং মালবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৭ জন। সবচেয়ে বেশি ১৯৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে দেশের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চালকদের বেপরোয়া গতি ও যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে সবচেয়ে বেশি ২০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ৯৭টি পথচারীকে চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সময়ভিত্তিক বিচারে দিনের শুরুতে অর্থাৎ সকালের দিকেই ৩১ শতাংশ দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রক্তের বন্যা বয়ে গেছে ঢাকা বিভাগে; যেখানে ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন মারা গেছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নৌ ও রেলপথে জুন মাসে আরও ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এই দুর্ঘটনার পেছনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, দক্ষ চালকের অভাব ও পরিবহন খাতের চাঁদাবাজিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই বিপর্যয় রোধে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন ও বিআরটিএ-র সংস্কারসহ সংস্থাটি সরকারের কাছে ১২ দফা জরুরি সুপারিশ পেশ করেছে।



