― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে পরিপত্র জারি

রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি বর্জন ও জনবান্ধব বার্তা সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকারি যেকোনো অনুষ্ঠানের প্রচারণায় ব্যবহৃত ব্যানার, ফেস্টুন, ডিজিটাল ডিসপ্লে কিংবা বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে প্রচারণামূলক উপকরণের মূল নকশায় ব্যক্তির চেয়ে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার (৫ জুলাই, ২০২৬) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারি করা এক বিশেষ নীতিগত পরিপত্রে এই নতুন নির্দেশনাটি প্রদান করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রের আদেশটি দেশের সকল সরকারি দপ্তর ও সংস্থায় অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা বিলবোর্ডে দ্বিমাত্রিক, ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল বা শৈল্পিক আঙ্গিকে প্রধানমন্ত্রীর কোনো প্রকার ছবি বা প্রতিচ্ছবি ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারণামূলক উপকরণের দৃশ্যমান নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য এবং জনগণের জন্য নির্ধারিত বার্তাটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

প্রশাসনিক এই আদেশে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো রাষ্ট্রীয় প্রচারণাসামগ্রী প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সরকারি বাজেটের অর্থের যৌক্তিক ব্যবহার এবং জনকল্যাণমূলক বিষয়বস্তুকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। এর পাশাপাশি প্রচারণার ব্যানারগুলোতে অপ্রাসঙ্গিক অলংকরণ বাদ দিয়ে কেবল প্রয়োজনীয়, জনগুরুত্বপূর্ণ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই নির্দেশনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। সেই লক্ষ্যে দেশের সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, পরিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং মাঠপর্যায়ের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা যথাযথভাবে ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের পেছনের মূল প্রেক্ষাপটটি জানা গেছে। আজ রোববার সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে সচিবালয়ে আসার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়ক ও জনপথের পাশে একটি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি উপলক্ষে টাঙানো ব্যানার-ফেস্টুনে নিজের বিশাল ছবি প্রদর্শিত হতে দেখেন। নাগরিক ভোগান্তি ও প্রচারণার এই ধারা দেখে তিনি তাৎক্ষণিক অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে পৌঁছানোর পরপরই মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জরুরি তলব করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় রোধ ও প্রচারণায় ব্যক্তি-কেন্দ্রিকতার বদলে জনস্বার্থের বিষয়বস্তুকে তুলে ধরার নির্দেশনা দেন, যার প্রেক্ষিতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই পরিপত্র জারি করা হয়।