ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন মামার লাঠির আঘাতে গুরুতর জখম হওয়া ভাগ্নে আবু বকর (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার রাতের নৃশংস হামলার পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে থাকা অবস্থায় শুক্রবার (৩ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আবু বকর কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের শিশেরকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবরের সন্তান। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে পৈতৃক ভিটায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশেরকুন্ডু গ্রামের তরুণ আবু বকরের সাথে তাঁর আপন মামা সিরু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমিজমার মালিকানা ও সীমানা নিয়ে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। গত মঙ্গলবার রাতে বিরোধপূর্ণ সেই জমির বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মৌখিক সংঘাত তৈরি হয়। একপর্যায়ে মামা সিরু মিয়া চরম ক্ষিপ্ত হয়ে একটি ভারী কাঠের লাঠি দিয়ে ভাগ্নে আবু বকরের মাথায় সজোরে জোরালো আঘাত করেন। এতে মাথার খুলি ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি তৎক্ষণাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুরুতর আহত আবু বকরকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে প্রথমে দ্রুত কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ধরা পড়লে এবং শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবণতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের (রেফার্ড) পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে ঢাকার একটি লাইফ-সাপোর্ট সম্বলিত প্রাইভেট ক্লিনিকে তিন দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শুক্রবার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের সার্বিক সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক সংবাদমাধ্যমকে জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং বাঁশ কাটার তাৎক্ষণিক উত্তেজনার জেরেই এই বর্বরোচিত খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের মরদেহের আইনি সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মামা পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে; তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত এজাহার বা মামলা দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মামলা রেকর্ড করে আসামিকে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হবে।



