গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ বাজার এলাকায় এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের দুই পাশে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যায় একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পূর্ববিরোধের জেরে বিএনপির কর্মীরা বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে মারধর করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জুনদহ বাজারে জড়ো হতে থাকেন এবং একপর্যায়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই হামলায় পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে স্থানীয় পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই রাজনৈতিক সহিংসতার সুযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক আঘাত এসেছে। জুনদহ বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং কিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে, যার ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ব্যবসায়ীরা জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সহিংসতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আলা মওদুদ মুঠোফোনে অভিযোগ করেন, জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিএনপির শান্তিকামী নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করেছে। এতে তাদের উপজেলা সভাপতিসহ তিনজন মারাত্মক জখম হয়েছেন। অপরদিকে, পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মীরাই প্রথমে শিবিরের এক নেতাকে মারধর করে এবং পরে দলবল নিয়ে এসে জামায়াতের শুরা সদস্য ও শিবির কর্মীসহ চার-পাঁচজনকে পিটিয়ে আহত করে। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারওয়ার আলম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



