নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা চেয়ে ইন্টারপোলকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।
একই অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফিরিয়ে আনতেও সহায়তা চাওয়া হবে চিঠিতে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের কপি হাতে পেলেই চিঠি পাঠানোর কাজ শুরু করবে পুলিশ। কারণ, চিঠির সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে রায়ের কপি।
এদিকে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার বন্দি বিনিময় বা প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত আনতে ভারতে চিঠি দেওয়ার কথা বলছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
গত মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতকে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের চিঠির সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাঠানো হবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ রায় পাঠাবে না। নোট ভারবাল (চিঠি) হিসেবে পাঠানো হবে।
চিঠি দেওয়া হয়েছে কিনা- উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, প্রস্তুত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দিবিনিময় সহজ করতে ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়। এর প্রায় আড়াই বছর পর প্রথম বন্দি হস্তান্তরের ঘটনা জানা যায়। ২০১৫ সালে ২৪ ঘণ্টার ব্যাবধানে হস্তান্তর করা হয়েছিল অনুপ চেটিয়া ও নূর হোসেনকে।
এর প্রায় এক যুগ পর প্রত্যর্পণ চুক্তি আলোচনায় এলো ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর।
দুই দেশের মধ্যেকার অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে আগেও হস্তান্তরের যে দাবি বা অনুরোধ জানিয়েছিল, সেই বিষয়ে ভারতের অবস্থান এখন কী হবে?
প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে একটি কূটনৈতিক পত্র বা ‘নোট ভার্বাল’ পাঠানো হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আগের সেই চিঠি পাওয়ার পর বছর ঘুরতে চললেও ভারত সেটি নিয়ে এতদিন একেবারে চুপচাপ বসেছিল, কিন্তু এবারে হয়তো তা নিয়ে মুখ খোলার জন্য তাদের ওপর চাপ বাড়বে।
ভারতের পররাষ্ট্র বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বারেবারেই বলেছেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির হাজারটা ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে এই হস্তান্তরের অনুরোধ নাকচ করার বা দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রেখে কালক্ষেপণ করার অজস্র সুযোগ রয়েছে – প্রয়োজন হলে ভারত যে কোনো সময় সেই রাস্তাও নিতে পারে।
বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির অনেকগুলো ধারার মধ্যে একটি ধারা হচ্ছে – যার হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটা যদি ‘রাজনৈতিক প্রকৃতি’র হয় তাহলে সেই অনুরোধ খারিজ করা যাবে।
তবে, কোন কোন অপরাধের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক’ বলা যাবে না, সেই তালিকাও বেশ লম্বা – এর মধ্যে হত্যা, গুম, অনিচ্ছাকৃত হত্যা ঘটানো, বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো ও সন্ত্রাসবাদের মতো নানা অপরাধ আছে। এখন বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে সব মামলা রুজু হয়েছে তার মধ্যে হত্যা, গণহত্যা, গুম ও নির্যাতনেরও নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে এগুলোকে ‘রাজনৈতিক’ বলে খারিজ করা কঠিন।



