কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিতে ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল উপহার দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) মাধ্যমে সরবরাহের উদ্দেশ্যে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) চট্টগ্রামের সাগরিকাস্থ ডব্লিউএফপির গুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে চালের এই চালান হস্তান্তর করা হয়।
আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ডব্লিউএফপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (মাফরা) অধীনে এই খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই চালানের বিশেষ বৈচিত্র্য হলো, সাধারণ চালের সাথে ১৫০ মেট্রিক টন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ ফোর্টিফাইড রাইস কার্নেল বা পুষ্টিবর্ধক চাল যুক্ত করা হয়েছে। এটি প্রক্রিয়াজাত করে সাধারণ চালের সঙ্গে মিশ্রণ ঘটানোর পর রোহিঙ্গা শিশু ও মায়েদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবিএম শফিকুল হায়দার। তিনি বলেন, “কোরিয়া সরকারের এই সময়োপযোগী সহায়তা মানবিক সংকট মোকাবিলায় আমাদের যৌথ অঙ্গীকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্ব সংকটকালে আমাদের শক্তি জুগিয়েছে।”
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, “আমরা কেবল খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, বরং পুষ্টিগত মান নিশ্চিত করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মানবিক সহায়তা রোহিঙ্গা সংকটের কঠিন সময়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, “সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সংকট কিন্তু কমেনি। দীর্ঘ দশ বছরে পদার্পণ করা এই বিশাল শরণার্থী জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ধরে রাখতে কোরিয়ার এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী দৈনন্দিন খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার ওপর পূর্ণমাত্রায় নির্ভরশীল। দক্ষিণ কোরিয়া এর আগেও ২০২৪ সালে ১৫,০০০ টন এবং ২০২৫ সালে ২০,২৬৫ টন চাল দিয়েছিল। নতুন এই চালানটি প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষেই কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিয়ে যাওয়া হবে।



