― Advertisement ―

ইরানে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রে শীঘ্রই হামলার হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ইরানের অতিসংবেদনশীল ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে দ্রুততম সময়ে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে বর্তমান উত্তেজনাকে একটি “ছোটখাটো সামরিক সংঘাত” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণে ইরান এখন পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে পারছে না।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সব মন্তব্য করেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স পর্বতসহ ইরানের বিভিন্ন গোপন স্থাপনায় কাদের আনাগোনা রয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে বিস্তারিত আগাম তথ্য রয়েছে। আমরা খুব শিগগির পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ থেকে থামিয়ে দিয়ে মার্কিন বাহিনী ইসরায়েল এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

চলমান সংঘাতের ধরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন বিরতি দিয়ে দিয়ে ইরানে আক্রমণ চালাচ্ছে। এটিকে কোনো সর্বাত্মক যুদ্ধ না বলে একটি সীমিত সামরিক লড়াই হিসেবে বিবেচনা করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন নৌবাহিনী কৌশলগতভাবে স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের নৌ ও রাডার সক্ষমতা ইতিমধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স পর্বতকে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ এলাকা মনে করা হয়। পাহাড়ের শত শত মিটার ঘন গ্রানাইটের নিচে স্থাপিত দুটি টানেল কমপ্লেক্স নিয়ে এই স্থাপনা গঠিত। মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে তেহরান দাবি করেছে, সেখানে কেবল উন্নত সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ও তৈরির কাজ চলে।

সংঘাত শেষ হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ না করলেও ট্রাম্প দৃঢ় দাবি করেন যে ওয়াশিংটন তাদের মূল লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আজই এই সামরিক অভিযান বন্ধ করে চলে যায়, তবুও নিজেদের আগের ধ্বংস হয়ে যাওয়া সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন করতে তেহরানের অন্তত ২৫ বছর লেগে যাবে।