বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি উদীয়মান সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে সুইস বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই আহ্বান জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি।
বৈঠকের শুরুতেই সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক আগামী দিনে আরও নতুন মাত্রা পাবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উভয় পক্ষই দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা যৌথভাবে বাংলাদেশের বিশাল শ্রমশক্তির কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে একমত পোষণ করে।
দুই দেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে সুইস রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, সুইজারল্যান্ডের বার্নে নতুন চালু হওয়া বাংলাদেশ দূতাবাসের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম উভয় দেশের কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে সহায়তা করবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষই গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বহুপাক্ষিকতাবাদ, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। একইসঙ্গে এসব সর্বজনীন মূল্যবোধ রক্ষায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন সুইস রাষ্ট্রদূত। তিনি নিশ্চিত করেন যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুইজারল্যান্ডের সমর্থনে কোনো ঘাটতি হবে না। আন্তর্জাতিক উদ্যোগে এই সংকটের একটি স্থায়ী ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ড সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাবে।



