― Advertisement ―

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ: পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দিল্লি, সতর্ক বার্তা ভারতের

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বহুপাক্ষিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল বলেন, “আমরা পশ্চিম এশিয়া এবং আশপাশের ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাবলির ওপর নিবিড় নজর রাখছি। এই নির্দিষ্ট চুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শান্তি ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ভারতের জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, “নিজের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এক সাক্ষাৎকারে ট্রিপক্ষীয় এই সামরিক জোট বা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ঢাকার অন্তর্ভূক্তির আগ্রহ প্রকাশের পর ভারতের পক্ষ থেকে এই প্রথম উচ্চপর্যায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এল। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে এর প্রভাব নিয়ে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল জানান, সফরের বিষয়ে এখনই নতুন কোনো আপডেট দেওয়ার নেই। সূচি চূড়ান্ত হওয়ামাত্রই তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে কথা বলেন তিনি। চলতি বছরের ডিসেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হতে চলায় যৌথ নদী কমিশনের (JRC) মাধ্যমে কারিগরি পর্যায়ে পর্যালোচনা ও আলোচনা বজায় রয়েছে বলে জানান এই মুখপাত্র।