মৃত্যুর পর দাফন-কাফনের খরচ কে জোগাবে—এই চিন্তায় এক-দুই টাকা করে জমাতেন সত্তোরর্ধ্ব প্রবীণ ওয়াহাব পাটোয়ারী। এলাকার মানুষ তাকে চিনতেন ‘মফুর বাপ’ নামে। শুক্রবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর দেখা গেল, নিজের কাফন কেনা আর জিয়াফতের আয়োজনের টাকা নিজেই গুছিয়ে রেখে গেছেন এই মানসিক ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক।
মনপুরা উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় গ্রামের এই বাসিন্দা বহু বছর ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। দিনভর হাট-বাজারে ভিক্ষা করতেন, আর রাতে ঘুমাতেন দোকান কিংবা রাস্তার ঘাটে। কিন্তু উপার্জিত ভিক্ষার টাকা তিনি মোটেও অপচয় করতেন না। প্রতিটি টাকা পলিথিনে পেঁচিয়ে আমানত হিসেবে তুলে দিতেন স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের হাতে।
শুক্রবার ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের কবির বাজারে মেয়ের বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন ওয়াহাব পাটোয়ারী। স্বজনরা জানান, নিঃস্ব অবস্থায় মারা গেলেও কারও ওপর বোঝা হতে চাননি তিনি। মৃত্যুর আগে তার ধারণা ছিল, টাকা না থাকলে হয়ত তার দাফন বা জানাজা আটকে যেতে পারে।
খবর পেয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার গচ্ছিত সেই পলিথিনের পুটলি খোলে মোট ৮ হাজার ৯৮৫ টাকা পান। এরপর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সেই তহবিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ যোগ করেন। সাবেক চেয়ারম্যান নিজে দেন ৫ হাজার টাকা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি রাজিব চৌধুরী ৫ হাজার টাকা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহীন দুই হাজার টাকা বাড়তি অনুদান দেন।
শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগেই ওয়াহাব পাটোয়ারীর জমানো টাকায় কেনা হয় কাফনের কাপড়। কলাতলী ইউনিয়নের মনির বাজার জামে মসজিদে জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক রীতি মেনে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিঃস্ব একজন মানুষের এমন সততা ও আত্মমর্যাদাবোধ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সামাজিক নেতারা জানিয়েছেন, ওয়াহাব পাটোয়ারীর রেখে যাওয়া ওছিয়ত পুরোপুরি পালন করা হবে। তার জমানো এবং স্থানীয়দের দেওয়া বাড়তি টাকায় দ্রুতই এলাকাবাসীকে ডেকে কুলখানি ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে খাওয়ানো হবে।



