― Advertisement ―

ভীমরুলির পেয়ারা বাগান ঘুরে গেলেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারার হাট পরিদর্শন করেছেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেল ওহাব সাইদানী। এ সময় তিনি আটঘর কুডিয়ানা ও ভীমরুলি এলাকার পেয়ারা বাগানগুলো ঘুরে...

অবকাঠামো উন্নয়ন ও নীতি সহায়তায় জোর দিলে দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে বাংলাদেশ

উপযুক্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, ভিসা সহজীকরণ ও আন্তর্জাতিক মার্কেটিং নিশ্চিত করা গেলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও রন্ধনশিল্প বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাজারে স্বতন্ত্র পরিচয় এনে দিতে পারে বলে মনে করেন হোটেল অ্যাসকট ঢাকার সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ডিরেক্টর সুমন সাহা অজয়।

এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হোটেল খাতের বর্তমান সংকট তুলে ধরে তিনি জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০২৬ সাল পর্যটন ও হোটেল ব্যবসার জন্য বেশ ধীরগতির। নতুন কোনো বড় বিদেশি প্রকল্প বা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম উল্লেখজনকভাবে না বাড়ায় এবং বড় আকারের সম্মেলন বা ইভেন্টের অভাব থাকায় হোটেলগুলোতে ঘরের দখলহার (Occupancy) ও সামগ্রিক মুনাফা চাপের মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশে কক্ষভাড়া ব্যাংকক, কাঠমান্ডু বা কুয়ালালামপুরের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় জমি ও নির্মাণ খরচ, ইউটিলিটি বিল, উচ্চ কর ও ভ্যাট এবং আমদানিকৃত সামগ্রীর ব্যয় অনেক বেশি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতো পর্যটকের বড় সংখ্যা না থাকায় হোটেলগুলো স্কেল অব ইকোনমির সুবিধা নিতে পারছে না। সমাধান শুধু কক্ষভাড়া কমানো নয়, বরং চাহিদা বাড়ানো এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর দিকে নজর দিতে হবে।

দক্ষ জনবলের ঘাটতিকে এই খাতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে সুমন সাহা অজয় জানান, দেশের তরুণদের কাজের সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবমুখী ও শিল্প-উপযোগী প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। সরকার ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোর যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ জোরদার করা প্রয়োজন, যা তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

সরকারের বাজেট ও নীতি সহায়তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, শুল্ক ও ভ্যাট কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন, ট্রাভেল ভিসা সহজীকরণ, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) উৎসাহিত করা এবং মাইস (MICE) বা ব্যবসায়িক পর্যটন বৃদ্ধিতে সরকারকে বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

ভারতের অভিজ্ঞতা বা সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার মডেল হুবহু নকল না করে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ভিত্তি করে সমন্বিত অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে দ্রুত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।