দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকান অঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুব শীঘ্রই উভয় দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক লেনদেন ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করবে বলে আশা করছেন কূটনীতিকরা। তবে এই সম্ভাবনা ও অগ্রগতির মাঝেও অবৈধ উপায়ে উচ্চ খরচে অভিবাসন এবং দালালি চক্রের দৌরাত্ম্য বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফি এবং কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ পথে ৩-৪ লাখ টাকায় যাতায়াত সম্ভব হলেও দালালের খপ্পরে পড়ে সাধারণ কর্মীরা ১০-১২ লাখ টাকা খরচ করছেন। অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ পথে দেশটিতে প্রবেশ করছেন। প্রসংগত, বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশই সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করায় আইনি ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বহু প্রবাসীকে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে আনুমানিক ৪০২.৯১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর বাইরে অনানুষ্ঠানিক পথে (হুন্ডি) প্রায় ৩০ শতাংশ রেমিট্যান্স আসছে বলে ধারণা করা হয়। গত সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ রেকর্ড ৬৩.৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স প্রেরিত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১১৯ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২৪.২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত কাঁচামাল ও পণ্য বাংলাদেশে আমদানি হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের প্রিমিয়ার থামসাঙ্কা ন্তুলির সাথে সাম্প্রতিক বৈঠকে বাংলাদেশি ওষুধ শিল্প ও তৈরি পোশাক খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন হাইকমিশনার। দেশটির জিডিপি ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং জনপ্রতি আয় প্রায় ৫,৭০০ ডলার হওয়ায় বিআরআইসিএস (BRICS) সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে বিবেচনা করছে ঢাকার নীতি-নির্ধারকেরা।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপন এবং প্রবাসীদের সঠিক তথ্য নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্যাংক ব্যবস্থায় রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করা সম্ভব। একই সাথে উভয় দেশের মধ্যকার মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার একটি পূর্ণাঙ্গ মিশন ও দ্রুত দূতাবাস স্থাপনের বিষয়েও জোর আলোচনা চলছে।



