― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

টেকসই অবকাঠামো থেকে সেমিকন্ডাক্টর: ঢাকা-কয়ালালামপুর সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে নতুন গতি এসেছে, তাকে আরও এগিয়ে নিতে চায় ঢাকা ও কয়ালালামপুর। বাণিজ্য ও প্রথাগত শ্রমবাজারের গণ্ডি পেরিয়ে এবার পল্লী উন্নয়ন, রাবারাইজড বিটুমিন প্রযুক্তির টেকসই অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টিভিইটি এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চপ্রযুক্তির উদীয়মান খাতে যৌথ সহযোগিতার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের সঙ্গে সচিবালয়ে তাঁর নিজ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার মহামান্য মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান। সাক্ষাৎকালে হাই কমিশনার ড. আব্দুল মঈন খানকে তাঁর সাম্প্রতিক মন্ত্রী পদগ্রহণের জন্য শুভকামনা জানান। দুই প্রতিনিধিই বন্ধুপ্রতীম দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতার নিরিখে টেকসই ও ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক মাত্রায় উন্নীত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের সামগ্রিক রূপান্তর ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও ভারী বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী সড়ক তৈরিতে মালয়েশিয়ার রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে ঢাকা। এই প্রযুক্তি কারিগরি দক্ষতা বিনিময় ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের প্রকৌশল খাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে সংযোগ ও নিরবচ্ছিন্ন শক্তির বিকল্প নেই। এ বিষয়টি স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উদীয়মান সৌরশক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়নের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে মালয়েশিয়ার এই কৌশলগত সহায়তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।

দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে যৌথ উদ্যোগ চেয়েছে বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। রবি আজিয়াটা ও ইডটকো-র মতো শীর্ষ মালয়েশীয় বিনিয়োগের উদাহরণ টেনে হাই কমিশনার বলেন, বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতিতে তাদের দেশের ব্যবসায়ীদের আগ্রহ আরও বাড়ছে।

সাক্ষাতে সেমিকন্ডাক্টর ও আধুনিক প্রযুক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রথাগত বাণিজ্যিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে উচ্চপ্রযুক্তির খাতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে চায় উভয় পক্ষই। উচ্চপর্যায়ের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের গতি বজায় রেখে বাস্তবমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদী দ্বিপাক্ষিক রূপরেখা তৈরিই এই যোগাযোগের মূল লক্ষ্য।