নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হিমবাহধসের পর ভোটেকোশি নদীর প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকারীরা নেপালের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬১৬টি এবং চীনের তিব্বত অংশ থেকে সাতটি লাশ উদ্ধার করেছেন। দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২ হাজার ৪২৬ জনে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় এই হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দুই দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির সীমান্ত এলাকাতেই নিখোঁজের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ১ হাজার ৯২৪ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া তিব্বত অংশে সাতজনের মৃত্যু ও ৫৫৪ জন নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ভৌগোলিক দুস্থতার কারণে নেপালের নদীতে ভেসে যাওয়া কিছু মরদেহ স্রোতের টানে ভারতের সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে বলে অনুমান করছেন স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো।
হিমালয় অঞ্চলের এই প্রলয়ংকরী বিপর্যয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও শ্রমিকের নিখোঁজ থাকা। দুই দেশের সরকারি পরিসংখ্যান ও পর্যটন বোর্ডের তথ্য একত্র করে দেখা যাচ্ছে, এই দুর্যোগে অন্তত ৭৭৭ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ৬২২ জন পর্যটকের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যাদের মধ্যে ৪৭৩ জন বিদেশি এবং ১৪৯ জন স্থানীয় নেপালি পর্যটক।
নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দলগুলো এসেছে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত বিভিন্ন দেশ থেকে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সীমান্ত কর্তৃপক্ষের মতে, উভয় অংশ মিলিয়ে তাদের প্রায় ১০০ জন নাগরিক নিখোঁজ এবং বহু বিদেশি নাগরিক তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে আটকা পড়েছেন। ভারতের ৯৮ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন, যার বিপরীতে ৮৫ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং নেপাল পর্যটন বোর্ডের পৃথক তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ থেকে ৬৫ জন নাগরিকের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
এছাড়া ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক এই দুর্যোগের কবলে পড়েছেন। ইউক্রেনের ৬১ থেকে ৬২ জন, মালয়েশিয়ার ৫১ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৪১ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন, লাটভিয়ার ২৯ জন এবং কানাডার ২৫ থেকে ৩০ জন নাগরিকের সঙ্গে স্বজনেরা যোগাযোগ করতে পারছেন না। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯ জন কর্মী সুড়ঙ্গে নিখোঁজ হন। রাশিয়ার ৯ জন, সিঙ্গাপুরের ৯ জন, জার্মানির ৮ জন, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ জন এবং জাপান ও নিউজিল্যান্ডের ৫ জন করে নাগরিক এই তালিকায় রয়েছেন।
ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, হাঙ্গেরি, ইতালি, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন ও ভিয়েতনামের বেশ কয়েকজন নাগরিকও এখনো নিখোঁজ। নেপাল সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো আকস্মিক ভূমিধস ও বন্যাকবলিত রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার সুড়ঙ্গ এবং দুর্গম পাহাড় থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ বহু মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ ক্যাম্পে সরিয়ে নিচ্ছে।



