― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

সৌদি ভিশন ২০৩০ রূপান্তরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নিতে চায় রিয়াদ: রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপকল্প ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে এক শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখছে রিয়াদ। প্রথাগত শ্রমনির্ভর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এখন বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিস্তৃত ক্ষেত্রে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়তে চায় দেশটি। দৈনিক ‘আমার বার্তা’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে উবাইয়া। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন পত্রিকাটির ডেপুটি এডিটর রানা এস এম সোহেল।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কূটনীতিক পূর্বে গুয়াংজু ও হাউস্টনে কনসাল জেনারেল এবং ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া ও জেনেভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ২০২৫ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর ১০ জুলাই রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ড. আবদুল্লাহ জানান, সৌদি-বাংলাদেশ সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা এখন এক নতুন ও সম্ভাবনাময় যুগে প্রবেশ করেছে

বর্তমানে প্রায় ৩৮ লাখ বাংলাদেশী সৌদি আরবে অবস্থান করছেন, যারা দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী মানবিক সংযোগ তৈরি করেছেন। এদের মাধ্যমে বাংলাদেশে বার্ষিক আনুমানিক ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত সাধারণ শ্রম নিয়োগ চুক্তিকে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার রক্ষা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করছে। ওই বছর ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে দেশটিতে গেছেন। তবে এখন ভিশন ২০৩০-এর চাহিদার সাথে সংগতি রেখে দক্ষ ও কারিগরি পেশাজীবী পাঠানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে অবকাঠামো ও বন্দর খাতে সৌদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আসা উচ্চপর্যায়ের এক সৌদি প্রতিনিধিদল ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। বিশেষ করে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনালসহ লজিস্টিকস খাতে কাজ করতে আগ্রহী। বন্দর ছাড়াও জ্বালানি, পেট্রোকেমিক্যাল, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত যৌথ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বড়ক্ষেত্র হয়ে উঠছে

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে দুই দেশের যৌথ অগ্রগতির আরেকটি মূল স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের বিপুল কৃষি জনশক্তি ও প্রযুক্তি এবং সৌদি আরবের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও বিনিয়োগ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার বিশাল সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ফিফা ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনকে সৌদি আরবের সামগ্রিক উন্নয়ন যাত্রার একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন ড. আবদুল্লাহ, যা বিশ্বমঞ্চে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির রূপান্তর তুলে ধরবে

পরিশেষে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, প্রথাগত কাঠামোর বাইরে গিয়ে ব্যবসা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ চালিত এক টেকসই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকে দুই দেশ যৌথভাবে এগিয়ে যাচ্ছে