― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে চাপে সরকার, সমঝোতার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণভোটের সময়সূচি ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের প্রকাশ্য বিরোধ দিনে দিনে আরও বাড়ছে। একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই পাল্টাপাল্টি কটূক্তি চলছে। শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, এই বিরোধের হাওয়া সাধারণ মানুষের গায়েও লেগেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’ নিয়ে চলছে তুমুল উত্তেজনা।

আর সংস্কার প্রশ্নে এনসিপিও বড় দুই দলকে কঠোর সমালোচনা করছে। একই সঙ্গে তিন দলই সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে পড়েছে।

এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে বড় দুই শক্তির বিরোধ থামাতে সরকার আড়ালে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ চারজন উপদেষ্টা ইতোমধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। তবে এখনও কোন অগ্রগতির খবর নেই।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চায় জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোট হোক। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চাইছে গণভোট নির্বাচন আগেই অনুষ্ঠিত হোক। এই জটিলতা নিরসনে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি জামায়াত নিশ্চিত করেছে।

গত ২৮ অক্টোবর ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার পরই রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধ প্রকাশ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ ক্রমেই বাড়ছে। দুই দলের সিনিয়র নেতারা তির্যক ভাষায় একে অপরকে ঘায়েল করতে চাচ্ছেন। অপরদিকে সংস্কার ইস্যুতে এনসিপি নেতারা বড় দুই দলের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন। এছাড়া তিন দলই সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন পুরো জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সরকারের উপদেষ্টারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু নির্বাচনের দিন গণভোট তারা মানবেন না। অবশ্যই গণভোট আগে হতে হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) আগে গণভোট চায়।

এ অবস্থায় বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সরকাল যোগাযোগ করবে বলে জানা গেছে। এছাড়া ঐকমত্য কমিশন বলছে, রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বক্তব্য দিচ্ছে, এর অধিকাংশই সত্য নয়। কিন্তু এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে দলগুলোর সঙ্গে তারা বিরোধে যেতে চান না। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এমনটি জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গণভোট ও জুলাই সনদ ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে এরকম মুখোমুখি অবস্থানে সরকার বিব্রত। এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধ মেটাতে পর্দার আড়ালে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও এ ব্যাপারে আলোচনা হয়। বিষয়টি সমাধানে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে চারজন উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সমঝোতার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত আদেশ জারি হতে পারে।

সূত্র আরো জানায়, আলোচনায় সরকার দুটি প্রস্তাব দিয়েছে। বিএনপিকে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি মেনে নিতে বলা হয়েছে। আর জামায়াতকে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটে রাজি হতে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে দুই দলই এখন পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অনড়।

এদিকে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ থাকলে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। তিনি এ সময়ে দলগুলোকে বিরোধ মেটাতে অনুরোধ করেন।

ঐকমত্য কমিশন সূত্র জানায়, তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু দলগুলো ছাড় দিতে রাজি হয়নি। সূত্র আরও জানায়, দলগুলো যে অভিযোগ করছে, এর অধিকাংশই সত্য নয়। চাইলে এগুলো প্রমাণ করা যায়। কারণ এখন পর্যন্ত দলগুলোর সঙ্গে যেসব আলোচনা হয়েছে, সেগুলো বিটিভি লাইভ প্রচার করেছে। কিন্তু এখনই এই ডকুমেন্ট সামনে এনে তারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মুখোমুখি হতে চায় না।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদে ৮৪টি প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১টি প্রস্তাবেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। সংবিধান সংশোধনে রয়েছে ৪৮টি প্রস্তাব।