জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা, জবাবদিহি এবং সর্বোচ্চ আইনি মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের অধিবেশন কক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর কঠোর তাগিদ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিনের কার্যক্রমে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত এক গভীর উদ্বেগের জবাবে স্পিকার এই রুলিং দেন। স্পিকার অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রের কোনো প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক কাজই জাতীয় সংসদ অধিবেশনের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। সব ধরনের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংসদীয় কার্যবিবরণীই সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও গুরুত্ব বহন করে।
এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদকে প্রাণবন্ত রাখতে স্পিকার সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক সময় স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বা স্থানীয় সরকারের মতো সংবেদনশীল মেগা সেক্টর নিয়ে সংসদে যখন বাজেট আলোচনা ও সংসদ সদস্যদের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলে, তখন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী কিংবা দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন না। আইনপ্রণেতাদের উত্থাপিত জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও সংকটের কথা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সরাসরি না শুনলে সংসদীয় জবাবদিহির মূল ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে বলে তিনি যুক্তি দেন।
সংসদ কক্ষের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ডেকোরাম (Decorum) নিয়েও তীব্র আপত্তি তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি জানান, একদিকে যখন ফ্লোরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী আলোচনা চলমান থাকে, তখন অন্য পাশে কয়েকজন সদস্যকে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে আলাদা আলোচনায় মগ্ন থাকতে দেখা যায়, যা সংসদের ঐতিহ্য ও ডিসেন্সির পরিপন্থী। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর রুলিংয়ে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার পর্যবেক্ষণগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। মন্ত্রীরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বলে আগের দিন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি যে সাফাই দিয়েছিলেন, তা নাকচ করে স্পিকার মন্ত্রীদের যথাসময়ে সংসদে উপস্থিত থাকার এবং আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেন।
একই সাথে সংসদ কক্ষের ভেতরে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংসদ সদস্যদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন স্পিকার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অধিবেশন চলাকালে মাঝেমধ্যে সদস্যদের ছোট ছোট গ্রুপে অনানুষ্ঠানিক আড্ডা দেওয়া, আসন ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে উচ্চবাচ্য করা এবং এমনকি কয়েকবার ‘ফ্লোর ক্রসিং’-এর (অধিবেশন চলাকালীন স্পিকার ও ফ্লোরে থাকা বক্তার মাঝখান দিয়ে যাতায়াত করা) মতো গুরুতর সংসদীয় বিধিভঙ্গের ঘটনা তাঁর প্রত্যক্ষ নজরে এসেছে। সংসদের গরিমা ও ডিসেন্সি রক্ষার্থে এ ধরনের গ্রুপভিত্তিক অনিয়ম অবিলম্বে পরিহার করে সব সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ আসনে বসে কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান স্পিকার।



