ফিলিস্তিনের গাজা নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আকস্মিক ও ভয়াবহ বিমান হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) দিবাগত রাতে কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা বা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নোটিশ জারি ছাড়াই গাজা নগরীজুড়ে অবস্থিত চারটি বহুতল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে এই প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালানো হয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এবং বৈশ্বিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে এই রক্তক্ষয়ী সামরিক আগ্রাসনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গাজার ঐতিহাসিক আল-শিফা হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিমান হামলার পর প্রাথমিকভাবে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পরবর্তীতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও ৩ জনের লাশ বের করা হয়, যার ফলে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে ৪টি শিশু ছাড়াও বেশ কয়েকজন নারী রয়েছেন। এছাড়া স্পটে গুরুতর দগ্ধ ও আহত অবস্থায় আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও উদ্ধারকারী দলগুলো ধসে পড়া কংক্রিটের নিচে অবরুদ্ধদের উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যখন স্থায়ী শান্তির চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে কার্যকর থাকা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির শর্ত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গাজায় এই সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর (Government Media Office) এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) অন্তত ৩ হাজারেরও বেশিবার এই আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির চুক্তি ও শর্তাদি সরাসরি লঙ্ঘন করেছে।
গাজা সরকারের মিডিয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ইসরায়েলি বাহিনীর এই ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯০০ ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২ হাজারেরও বেশি মানুষ গুরুতরভাবে আহত বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং গাজার ভূখণ্ড পুনর্দখলের আগ্রাসী নীতি এই অঞ্চলের মানবিক সংকটকে প্রতিনিয়ত আরও গভীর ও সংকটাপন্ন করে তুলছে।



