― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

একা সফল হওয়া সম্ভব নয়, প্রয়োজন তৃণমূলের সক্রিয় ব্যাকআপ: তারেক রহমান

সামনে অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সময় অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও নীতি-নির্ধারকদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার এই ক্রান্তিলগ্নে ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কঠিন সময়ে কেউ যদি ‘হেসেখেলে’ দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে চলেন, তবে তার খেসারত ব্যক্তি নয়—বরং সমগ্র দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দিতে হবে। গতকাল রোববার (৩১ মে, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে ২১৪টি সংসদীয় আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর ইশতেহার বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা চান তিনি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই রাজনৈতিক কনক্লেভে সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের বিপুল রায়ে নির্বাচিত এই সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও ইশতেহারের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটানো। সংসদে থাকা ২১৪ জন সংসদ সদস্য এবং আমিসহ মন্ত্রিসভার ৫০ জন সদস্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করলেও, তৃণমূলের কর্মীদের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক ব্যাকআপ ছাড়া জাতীয় লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব। তিনি সতর্ক করেন যে, শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা রক্ষা এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করার যে কঠিন মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা সফল করতে দলের প্রত্যেক কর্মীকে সরকারের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তার পিতার রাষ্ট্রদর্শন ও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন। তিনি ১৯৮৬ সালে নিজের পবিত্র ওমরাহ পালনের স্মৃতিচারণা করে বলেন, মক্কা হোটেলের লিফটের সামনে একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকের সাথে কুশল বিনিময়ের সময় ‘বাংলাদেশ’ নাম উচ্চারণ করতেই সেই বিদেশি নাগরিক তাৎক্ষণিকভাবে ‘ও জিয়াউর রহমান’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, স্বাধীনতার পর তৎকালীন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার যখন বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বা ‘Bottomless Basket’ বলে উপহাস করেছিলেন, তখন জিয়াউর রহমান মাত্র কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রম ও সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

স্মরণসভায় দলটির স্থায়ী কমিটির নীতি-নির্ধারক, বুদ্ধিজীবী এবং জাতীয় শিক্ষা ক্যাডারের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের যে বৈদশিক মুদ্রা অর্জনের ওপর দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে, তার মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল আশির দশকে। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় দেশের শিল্প খাতে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলার কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করেছে। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, এক মিনিটের নীরবতা পালন এবং দেশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কেআইবি মিলনায়তনের এই কনক্লেভ সমাপ্ত হয়।