বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব সুসংহত করতে দেশের বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে ইউরোপীয় দেশগুলোর গভীর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন নুড়িয়া লোপেজ। তিনি মনে করেন, বিমান ক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারবাস’-কে সমমানের ও প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ দেওয়া উচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রফতানি বাজার হওয়ায় ভবিষ্যৎ কেনাকাটার সিদ্ধান্তে এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটানো হলে তা উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দেবে।
বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গে ইউরোচ্যাম প্রধান জানান, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে ইউরোপীয় কমিশনই সরাসরি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুস্বাক্ষর করে থাকে। বর্তমানে মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের সাথে চুক্তি আলোচনা চলছে এবং ভারত ও ভিয়েতনামের সাথে ইতিমধ্যে চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। বাংলাদেশ সম্প্রতি জাপানের সাথে ইপিএ এবং আসিয়ান ভুক্ত দেশের সাথে আলোচনা শুরু করলেও ইইউ-এর সাথে আনুষ্ঠানিক এফটিএ আলোচনা দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আর সময়ক্ষেপণ না করে এখনই দরকষাকষি শুরু করা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যবসার পরিবেশ ও বিনিয়োগ জলবায়ু মূল্যায়নে স্প্যানিশ এই উদ্যোক্তা বলেন, বিগত ৫৪ বছরে দেশের অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলেও লজিস্টিকস, জ্বালানি, অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ সেই গতিতে হয়নি। নিয়ন্ত্রণমূলক জটিলতা, শুল্কবহির্ভূত বাধা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে ইউরোপীয় প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আসেনি। নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, সহজ ও পূর্বাভাসযোগ্য করে তোলা, যাতে তৈরি পোশাক খাতের বাইরেও বহুমাত্রিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়।
সাক্ষাৎকারে নবগঠিত সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি যুক্ত করেন, সরকারের প্রাথমিক বার্তাগুলো ইতিবাচক হলেও নীতিগুলোর মাঠপর্যায়ের কার্যকর বাস্তবায়নই মূল অনুষঙ্গ। অ-শুল্ক বাধা দূরীকরণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের সদিচ্ছার ওপরই ভবিষ্যতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে। বর্তমানে প্রায় ২৩.৩ বিলিয়ন ইউরোর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের রফতানি সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে, যা আধুনিক সংস্কার ও এফটিএ সম্পাদনার মাধ্যমে আগামীতে আরও বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব।



