― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় মিশরের শান্তির ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা বাংলাদেশের

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় মিশরের ইতিবাচক ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বাংলাদেশের প্রতি কায়রোর অবিরত সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে ঢাকা। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আগামী দিনে উভয় দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে ঢাকা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাজধানীর শেরাটন হোটেলে মিশরের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি অনুষ্ঠানের অতিথিদের স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী নেতা, অসামরিক ও সামরিক আমলা, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, “মিশর বাংলাদেশের এক পরীক্ষিত বন্ধু এবং ১৯৭১ সালের পর থেকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্লোবাল সাউথ, ওআইসি (OIC) এবং ডি-৮ (D-8)-এর অন্যতম দুই মূল সদস্য হিসেবে বিশ্বশান্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে কায়রো ও ঢাকা সার্বিক সহযোগিতা বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ঢাকা-কায়রো সম্পর্কের ক্ষেত্র অর্থনীতি, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষি ও সংস্কৃতিসহ বহুবিধ খাতে বিস্তৃত। সম্প্রতি ঢাকা ও কায়রোর মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হওয়া দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রার যোগসূত্রের প্রমাণ দেয়। তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও গবেষণায় প্রতিবছর অসংখ্য বাংলাদেশী শিক্ষার্থী আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও প্রমিত ধর্মীয় শিক্ষার বিকাশে অনন্য অবদান রাখছে। এছাড়া মিশরের তৈরি পোশাক খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ায় তিনি মিশর সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের বিপুল জনরায় নিয়ে নতুন সরকার গঠনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বন্ধুত্ব, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বের পররাষ্ট্রনীতিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দক্ষতা উন্নয়ন খাতে মিশরের সাথে যৌথ কাজের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং মিশরের তৎকালীন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আনোয়ার আল সাদাতের গভীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আন্তরিক বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক স্মারকটি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই দুই মহান নেতার বলিষ্ঠ দূরদর্শিতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ-মিশর ঐতিহাসিক সম্পর্কের শক্ত ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে।

পরিশেষে মন্ত্রী মিশরের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করার পাশাপাশি দেশটির ভ্রাতৃত্বপ্রতীম জনগণের নিরবচ্ছিন্ন শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সাথে তিনি মিশরের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, এগ্রো-প্রসেসিং ও পর্যটন খাতে সরকারের বিশেষ অর্থনৈতিক সুবিধার সুযোগ নিয়ে ব্যাপকভাবে বিনয়োগের আহ্বান জানান।