― Advertisement ―

ইরান প্রণালি না খুললে ‘প্ল্যান বি’; ন্যাটোর সাথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র জরুরি বৈঠক

বিশ্বের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের সামরিক জটিলতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ (Plan B) প্রস্তুত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সুইডেনের হেলসিংবার্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত বৈঠকে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের (NATO) সদস্য দেশ ও মিত্রদের সাথে এই বিষয়ে অত্যন্ত গোপন ও বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, হরমুজ প্রণালির মতো বৈশ্বিক অর্থনীতির লাইফলাইনে যদি নতুন করে কেউ সংঘাত সৃষ্টি করে বা গুলিবর্ষণ শুরু করে, তবে পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিশ্বশক্তির কাছে একটি কার্যকর ও প্রস্তুত বিকল্প রোডম্যাপ থাকা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি।

নাম উল্লেখ না করে সরাসরি ইরানের প্রতি গভীর ইঙ্গিত করে মার্কো রুবিও বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও আদর্শগত দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তেহরানের উচিত এই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও উন্মুক্ত করে দেওয়া। তবে ইরান যদি তাদের আগের অবস্থানে অনড় থেকে শেষ পর্যন্ত এই আন্তর্জাতিক জলপথটি খুলে দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানায়, তখন উদ্ভূত চরম সংকটকালীন পরিস্থিতিতে মিত্র দেশগুলো যৌথভাবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে— সেটিই এখন সবচেয়ে বড় কৌশলগত প্রশ্ন। আর এই সম্ভাব্য অচলাবস্থাকে শক্ত হাতে দমন করার লক্ষ্য নিয়েই ওয়াশিংটন মূলত তাদের মিত্রদের সাথে নিয়ে ‘প্ল্যান বি’ বা দ্বিতীয় বিকল্প পরিকল্পনাটি সাজাতে চাইছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরান যদি দীর্ঘ সময় ধরে এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি অবরুদ্ধ বা বন্ধ করে রাখে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অংশীদার ও ভুক্তভোগী দেশগুলোকে অবশ্যই এর বিরুদ্ধে তীব্র ও অত্যন্ত কার্যকর পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবে হরমুজ প্রণালির এই জটিল ও উত্তপ্ত সমুদ্র সংকটে সরাসরি সামরিক জোট ন্যাটোর কোনো বিশেষ বাহিনী বা কমান্ড সরাসরি অংশ নেওয়া উচিত কি না, সেই স্পর্শকাতর সামরিক প্রশ্নের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট মন্তব্য না করে বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে এড়িয়ে যান।

একই সাথে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা বা পর্দার অন্তরালের সমঝোতার অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন মার্কো রুবিও। এ প্রসঙ্গে নিজের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি দাবি করেন, হোয়াইট হাউসের অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে তেহরানের অত্যন্ত ‘কঠিন’ ও অনমনীয় কিছু মানুষের সাথে দিনরাত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কূটনীতির টেবিলে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত বা টেকসই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে রুবিও কিছুটা সংশয় মিশ্রিত আশা প্রকাশ করেন যে, পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে, তবে শেষ মুহূর্তে সবকিছু ভেস্তে যাওয়ার এক প্রবল আশঙ্কার কথাও তিনি উড়িয়ে দেননি।