ইউরোপীয় অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ইউরোপ মহাদেশে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘ব্রিগেড কমব্যাট টিম’ (বিসিটি)-এর সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) পেন্টাগনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে এই সামরিক পুর্নবিন্যাসের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনীর উপস্থিতি ও একক সামরিক আধিপত্যের ক্ষেত্রে একটি নতুন নীতিগত বার্তা স্পষ্ট হলো।
পেন্টাগন তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, এই কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে ইউরোপীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা উপস্থিতির পরিধি ও সংখ্যা ঠিক ২০২১ সালের স্তরে ফিরে যাচ্ছে। একই সাথে ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থানে থাকা পোল্যান্ডে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করার যে পূর্ববর্তী মহাপরিকল্পনা ছিল, তাও সাময়িকভাবে স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর প্রতিটি ‘ব্রিগেড কমব্যাট টিম’-এ সাধারণত ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৭০০ জন উচ্চপ্রশিক্ষিত সেনাসদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকেন। সেই হিসাবে ইউরোপ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার বা স্থানান্তর করা হচ্ছে।
পেন্টাগনের এই আনুষ্ঠানিক বিবৃতির ঠিক আগেই মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পোল্যান্ডের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, পোল্যান্ডের সীমান্ত সুরক্ষায় অতিরিক্ত ৪ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর যে দ্বিপক্ষীয় পরিকল্পনা ছিল, তা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়নি; বরং বর্তমান বৈশ্বিক সামরিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তা আপাতত কিছুটা বিলম্বিত করা হয়েছে মাত্র। ভাইস প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এবং পেন্টাগনের বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত অগ্রাধিকারের প্রতিফলন দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের বুক থেকে মার্কিন সেনা ব্রিগেড কমানোর এই আকস্মিক পদক্ষেপের পেছনে একটি গভীর ভূ-রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক চাপ কাজ করছে। ওয়াশিংটন মূলত এর মাধ্যমে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোভুক্ত (NATO) ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের জাতীয় প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি আর্থিক বিনিয়োগ ও স্বনির্ভরতা বাড়ানোর একটি পরোক্ষ ও কড়া বার্তা দিল। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে আসছিল যে, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সামরিক বাজেটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে রয়েছে, যা পরিবর্তনের সময় এসেছে।



