― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

আবারও আগুন সন্ত্রাসের কবলে দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আবারও রাজনীতির মাঠে ফিরে এসেছে আগুন সন্ত্রাসের ভয়াবহতা। রাজধানী ঢাকায় গত সোমবার থেকে শুরু হয় এই আগুন সন্ত্রাস। সবশেষ আজ বুধবার ভোরে গাজীপুরে ও আশুলিয়ায় দাঁড় করিয়ে রাখা বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এর আগে ময়মনসিংহে বাসে দেওয়া আগুনে মৃত্যু হয়েছে ঘুমন্ত চালকের। আহত হন আরও দুজন। এ ছাড়াও যত্রতত্র ককটেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। মানুষ এখন গণপরিবহণে উঠতে ভয় পাচ্ছেন।

এর সঙ্গে একের পর এক খুন জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সোমবার রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পর মঙ্গলবার গুলশানে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মোহাম্মদপুরে উদ্ধার করা হয়েছে ছাত্রদল নেতার লাশ।

এর ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপপ্রচারে মানুষ যেন ফিরে গেছে ২০১৪-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক ভয়াবহ দিনগুলোতে।

তবে পুলিশ বলছে, ১৩ নভেম্বর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। পরিস্থিতি পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঢাকাবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

রাজধানী ঢাকায় গতকাল আরও পাঁচটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে নিক্ষেপ করা হয়েছে ককটেল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ছোট ছোট হামলার মাধ্যমে জনগণের মনে ভয় তৈরি করাই দুর্বৃত্তদের লক্ষ্য। যাতে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ে। তারা বলছেন, আগুন সন্ত্রাসের এই ধারাবাহিকতা দেশের রাজনীতিতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেন, অস্থিরতা রুখতে হলে নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রশাসনকে চোখ-কান খোলা রেখে আরও কঠোর হতে হবে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পতিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অনলাইন ও অফলাইনে ‘লকডাউন’ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়ে উসকানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গত এক সপ্তাহে ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও চোরাগোপ্তা হামলার মাধ্যমে সেই প্রচারণাকে জোরদার করা হয়েছে।

সর্বশেষ সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকায় চারটি বাস ও একটি প্রাইভেটকারে আগুন এবং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল (আওয়ামী লীগ) চলতি মাসের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ১৮টি ককটেল বিস্ফোরণ ও ১০টি যানবাহনে আগুন দিয়েছে। এসব ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১৭টি মামলা হয়েছে।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

সূত্রমতে, অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ও আশপাশে ১৪টি ঝটিকা মিছিল করে ওই দল ও তাদের অঙ্গসংগঠন। অধিকাংশ মিছিলকারীরা বাইরে থেকে এসে টাকা নিয়ে ঝটিকা মিছিলে অংশ নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, ১৩ নভেম্বর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। পরিস্থিতি পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। ঢাকাবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

তিনি বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ বা ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কের কিছু নেই। ১৩ নভেম্বরের জন্য ডিএমপি ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশমুখগুলোতে পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল মোতায়েন থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার জানান, পুলিশ সব সময় সংযম দেখিয়েছে। আমরা কোনো মারণাস্ত্র বা লাঠি ব্যবহার ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। গণমানুষের দাবি শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ১৩ নভেম্বর ঘিরে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও বড় কোনো সহিংসতা হয়নি। পুলিশ-র‌্যাবসহ সব বাহিনী প্রস্তুত আছে।

তিনি বলেন, আগুন সন্ত্রাসে জড়িত কেউ রেহাই পাবে না। রাস্তার পাশে জ্বালানি তেল বিক্রি কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকবে, যাতে এসব তেল কিনে দুর্বৃত্তদের আগুন লাগানোর সুযোগ না থাকে।