― Advertisement ―

চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে পোস্ট: কলামিস্ট কারেন আতিয়াহকে পুনর্বহালের নির্দেশ

ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা মন্তব্যের জেরে চাকরিচ্যুত কলামিস্ট কারেন আতিয়াহকে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে।

একজন স্বাধীন সালিশকারী রায় দিয়েছেন, আতিয়াহকে চাকরিচ্যুত করার জন্য সংবাদপত্রটির যথেষ্ট কারণ ছিল না। একই সঙ্গে তাকে বকেয়া বেতন ও হারানো সুযোগ-সুবিধা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে এক অনুষ্ঠানে গুলিতে নিহত হন রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার চার্লি কার্ক। তার মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রক্ষণশীলদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘র‌্যাডিক্যাল লেফট’-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

কার্কের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতিয়াহ লেখেন, তিনি এমন একজন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ‘লোক দেখানো শোক’ প্রকাশ করবেন না, যিনি সহিংসতাকে সমর্থন করতেন। তিনি কার্কের অতীতের কিছু মন্তব্যও তুলে ধরেন, যেগুলোকে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের প্রতি বর্ণবাদী হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছিল।

এর পরদিন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট আতিয়াহকে ‘গুরুতর অসদাচরণ’-এর অভিযোগে চাকরিচ্যুত করে। সংবাদপত্রটির দাবি ছিল, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নীতি লঙ্ঘন করেছে এবং সংবাদপত্রের সুনাম ও কর্মীদের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

তবে মামলাটি পর্যালোচনা করে সালিশকারী সারাহ মিলার এসপিনোসা বলেন, আতিয়াহ ‘গুরুতর অসদাচরণে’ জড়িত ছিলেন—এমন প্রমাণ দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট দিতে পারেনি। তার চাকরিচ্যুতির পক্ষে ‘যথেষ্ট ও সঙ্গত কারণ’ও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মীদের ইউনিয়নের চুক্তি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ের পর আতিয়াহ বলেন, তিনি একজন মতামতধর্মী সাংবাদিক হিসেবে নিজের কাজই করছিলেন এবং এই সিদ্ধান্ত তার অবস্থানকে পরিষ্কার করেছে। তিনি এটিকে সাংবাদিকদের স্বাধীন মতপ্রকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, তারা সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করে। তবে পুনর্বহালের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি আপিল করবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

কারেন আতিয়াহকে পুনর্বহালের এই সিদ্ধান্তকে সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।