যুক্তরাষ্ট্রে আটক ইরানিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করেছিল মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। সম্প্রতি প্রকাশিত শত শত ইমেইলে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) হাতে আসা এসব ইমেইল মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনটি আলাদা অভিবাসন ফ্লাইটে ১০০ জনের বেশি ইরানিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
ইমেইলগুলোতে আরও দেখা যায়, কোন কোন ইরানিকে ফেরত পাঠানো হবে—সেই তালিকায় ইরানি কর্মকর্তাদেরও প্রভাব ছিল। এমনকি শেষ মুহূর্তে ইরানি দূতাবাসের অনুরোধে আইসিই কর্মকর্তারা কয়েকজনের নাম তালিকায় যুক্ত বা পরিবর্তন করেছিলেন।
২০২৫ সালের আগস্টের এক ইমেইলে এক আইসিই কর্মকর্তা লেখেন, ইরানি দূতাবাসের অনুরোধে কয়েকটি মামলা তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এর কিছুদিন পর আরেক কর্মকর্তা জানান, ইরানি দূতাবাসের একজন পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের পর তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আরেকটি বার্তায় বলা হয়, ইরান আগের তালিকা সংশোধন করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করার অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রথম ফ্লাইটটি ছাড়ার মাত্র তিন দিন আগে, ২৬ সেপ্টেম্বরও ইরানি দূতাবাস আরও তিনজনকে ওই ফ্লাইটে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিল বলে ইমেইলে উল্লেখ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা বিমানে উঠেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চললেও এই সমন্বয় অব্যাহত ছিল। ২০২৫ সালের জুনে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের সময়ও ইরানিদের ফেরত পাঠানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আইসিই কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল। ওই সময় ইরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় এবং দেশটি থেকে মানুষ পালিয়ে যাওয়ায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কঠিন হবে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন।
তবু আইসিইর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স ইরানিদের ফেরত পাঠানোকে ‘অগ্রাধিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে কর্মকর্তারা আইসিই হেফাজতে থাকা চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ পাওয়া ৫৮ জন ইরানিকে কীভাবে ফেরত পাঠানো যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করতে বলেন।
ফ্লাইটগুলো কাতারের মধ্যস্থতায় পরিচালিত হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে কাতারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ হলেও ইমেইলে ইরানি দূতাবাসের পরিচালক, ইরানি প্রতিনিধিদল এবং অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
এদিকে, অন্তত একজন ইরানিকে ভুলবশত এমন একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যার নাম চূড়ান্ত তালিকায় ছিল না। এক মার্কিন কর্মকর্তা ইমেইলে লিখেছিলেন, চূড়ান্ত তালিকায় না থাকা একজন ইরানি বিমানে উঠে গেছেন। এর জবাবে আরেক কর্মকর্তা জানান, ওই ব্যক্তি কীভাবে বিমানে উঠলেন, তা তিনি জানেন না।
এ ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানে রাজনৈতিক বিরোধী, নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ থাকায় তাদের সেখানে ফেরত পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদি বলেন, প্রকাশিত ইমেইলগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যে, ইরানের নিপীড়ন থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করাই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) ইরানি আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন-সংক্রান্ত গোপন তথ্য ইরান সরকারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।



