বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিতর্কিত এক মানচিত্র প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি ওই মানচিত্র পোস্ট করেন। কোনো মন্তব্য ছাড়াই এক সপ্তাহের মধ্যে দুইবার একই ছবি নিজের হ্যান্ডেলে শেয়ার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এর আগে গত শুক্রবারে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে পুলিশ একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বিতর্কটি উসকে দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, ইরানকে হারানোর পর খুব দ্রুতই হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বলে ঘোষণা করা হবে।
ট্রাম্পের কথায়, ‘এই জলপথ এখন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রেরই নিয়ন্ত্রণাধীন। সেখানে আমাদের কড়া অবরোধ চলছে এবং ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজের পক্ষে সেখান দিয়ে চলাচল করা অসম্ভব।’ তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য তাঁর প্রশাসনের নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক পররাষ্ট্রনীতির কৌশল নাকি শুধুই কথার কথা, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নন বিশ্লেষকেরা।
ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক পদক্ষেপের পরই কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানের উপ–পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের হুমকি বা ভয় দেখিয়ে ইরানকে দমিয়ে রাখা যাবে না। হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখার একমাত্র একচ্ছত্র অধিকার কেবল ইরানেরই রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালানোর পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ করে রাখে তেহরান। এর ফলে বৈশ্বিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। বিশ্ববাজারে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত মোট তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগই এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। বন্দর ও জাহাজ চলাচলে মার্কিন অবরোধের মুখে পড়ে একের পর এক কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সংবাদমাধ্যম ‘শাহরারা নিউজ’-কে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তেহরান নেয়নি। কাতার বা পাকিস্তানের মাধ্যমে যে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে, তাকে কোনো শান্তি চুক্তি বা সংলাপ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে ওমানের মধ্যস্থতায় একটি নিরাপদ নৌপথ চালুর বিষয়ে কথা চললেও, সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হবে।



