― Advertisement ―

নতুন নিষেধাজ্ঞার আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি কঠোর বার্তা

নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রস্তুতির মধ্যে দুই দেশই একে অপরকে কঠোর বার্তা দিচ্ছে।

প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি গোলাগুলি না হলেও শান্তি আলোচনা বা সমঝোতার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগও নেই। এর মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে ওয়াশিংটন। এতে ইরানের পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার, বিশেষ করে চীনও প্রভাবিত হতে পারে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার দুপুর ২টায় (ইডিটি) সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ ঘোষণার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করতে চীনের সহযোগিতাও চাইবে ওয়াশিংটন।

২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনে থাকে চীন। তবে বেইজিং এই সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার (২২ আগস্ট) নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেন, এটি জাতিসংঘের প্রতিটি স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সীমান্তের বাইরে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার’ চেষ্টা।

হরমুজ প্রণালিতে থমকে তেল পরিবহন

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরান হুমকি দিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো তেলবাহী জাহাজ সরু এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে সেগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে কোনো বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার ছিল না।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক সহায়তায় বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হচ্ছে। যুদ্ধের আগে এই পরিমাণ ছিল প্রতিদিন ২ কোটিরও বেশি ব্যারেল।

যুদ্ধের প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতে

মার্কিন হামলায় ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির নৌ ও বিমানবাহিনীও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে ইরানের হাতে এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা তেলবাহী জাহাজ চলাচল এবং আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি শুক্রবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শত্রুর যেকোনো হুমকির জবাব ‘ধ্বংসাত্মক ও কঠোর’ সামরিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হবে।

তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফও দেশের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সামরিক শক্তি যতই থাকুক, মানুষ ক্ষুধার্ত থাকলে এবং অর্থনৈতিক লেনদেন, প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় উৎপাদন ব্যাহত হলে কোনো দেশই টিকে থাকতে পারে না।

এদিকে যুদ্ধের প্রায় ছয় মাসে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ৭৫০-এর বেশি সামরিক সদস্য আহত এবং ১৮ জন নিহত হয়েছেন।