প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ। ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উভয় দেশের প্রতিনিধি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে আরও সম্প্রসারিত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তারা। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে।
উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পেশাগত সক্ষমতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) সঙ্গে সৌদি আরবের শীর্ষ সামরিক একাডেমিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানো হবে। উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা এবং পারস্পরিক প্রশিক্ষণার্থী ও কর্মকর্তা বিনিময়ের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জরুরি মানবিক সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রও বাদ পড়েনি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের অর্জিত যৌথ অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই প্রতিনিধি। সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে উদ্ধার ও সহায়তার সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরির বার্তা দেওয়া হয় এই বৈঠকে।
সামরিক অংশীদারিত্বকে টেকসই করতে প্রতিনিধিদলের নিয়মিত সফর আয়োজনের বিকল্প নেই। দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি সফরের মাধ্যমে বিদ্যমান কৌশলগত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে করে সামরিক বোঝাপড়ার নতুন পথ উন্মুক্ত হবে।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চ পেশাদারিত্ব ও সামরিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ। বিপরীতে বিগত বছরগুলোতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক আরও নিবিড় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।



