জাপানের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে টোকিওসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়। তবে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইবারাকি প্রিফেকচারের দক্ষিণাঞ্চলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৮ রেকর্ড করেছে।
আহতদের মধ্যে ১৫ জন টোকিওর, ৯ জন সাইতামার, ৮ জন কানাগাওয়ার, ৪ জন চিবার এবং একজন ইবারাকির বাসিন্দা। অধিকাংশই সামান্য আহত হয়েছেন। ঘুম থেকে আতঙ্কিত হয়ে উঠে পড়ার সময় পড়ে গিয়ে বা আসবাবপত্র ও দরজায় ধাক্কা লেগে বেশিরভাগ মানুষ আহত হন। ইয়োকোহামায় ৮০ বছরের এক নারী বিছানা থেকে পড়ে গুরুতর নিতম্বে আঘাত পেয়েছেন।
ভূমিকম্পের প্রভাবে টোকিও ও নারিতা বিমানবন্দরগামী এক্সপ্রেস ট্রেনসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি স্থানীয় ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়। তবে শিনকানসেন বুলেট ট্রেন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি।
টোকিওর কোটো এলাকায় একটি ভূগর্ভস্থ পানির পাইপ ফেটে রাস্তায় পানি উঠে যায়। পরে সেটি মেরামত করা হয়েছে। রাজধানীতে প্রায় ৪৬০টি বাড়িতে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও পরে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও কোনো অস্বাভাবিকতার খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের পর সরকার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। জেএমএ জানিয়েছে, আগামী প্রায় এক সপ্তাহ সম্ভাব্য পরাঘাতের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে।



