দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে শক্তি প্রদর্শনের পর এবার নিজেদের পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের এক প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা। প্রতিপক্ষ যদি তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে বাধ্য হয়ে পরমাণু অস্ত্রের দিকে হাত বাড়াবে ইরান।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দেশটির অহভাজ শহরের জুমার খুতবায় এই নজিরবিহীন কড়া বার্তা দেন বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা ও খতিব মোহাম্মদ নবী মুসাভিফার্দ। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ার পরপরই পশ্চিমাবিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
খুতবায় ক্ষোভ প্রকাশ করে খতিব মুসাভিফার্দ বলেন, প্রতিপক্ষ যদি ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিমূলে কথিত ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ওয়ার’ বা অবকাঠামোগত সংঘাত চাপিয়ে দেয়, তবে পরিস্থিতির মোড় সম্পূর্ণ অন্যদিকে ঘুরে যাবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত ইরানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ এখতিয়ার। ক্রমাগত সামরিক চাপ সৃষ্টি করা হলে তেহরান আর প্রচলিত সতর্কতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বক্তব্যে ওয়াশিংটনকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন এই ধর্মীয় নেতা। তিনি হুঁশিয়ার করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে এই অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে এক জটিল সমরসংকটে আটকা পড়েছে এবং সেখান থেকে সহজে বের হওয়ার কোনো পথ তাদের জানা নেই।
চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যে আগুনে ঘি ঢেলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার। এক পৃথক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের তোলা নীতিগত শর্তগুলো না মানা হলে এই উত্তপ্ত অবস্থা খুব শিগগিরই এক পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাত্মক ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধের পর্যায়ে’ মোড় নিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই জোড়া বার্তার মাধ্যমে ইরান মূলত দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে। একদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, অন্যদিকে সামরিক চাপ চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছালে পারমাণবিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আর এই প্রচ্ছন্ন পারমাণবিক হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ইতোমধ্যেই স্পর্শকাতর ভূরাজনীতি নতুন করে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।



