চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাতে গিয়ে ভূপাতিত সুখোই-২৪ (Sukhoi-24) যুদ্ধবিমানের তিন ইরানি বৈমানিক এখনো জীবিত আছেন। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে কাতার সরকার তাঁদের আটক করে রেখেছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরান। বন্দি বৈমানিকদের অবিলম্বে মুক্তি ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (ICRC) হস্তক্ষেপ দাবি করেছে দেশটি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ দেশের সশস্ত্র বাহিনীর অনুসন্ধানী ফ্রন্টের প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহের একটি চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে।
কাতারে আটক এই তিন উচ্চপদস্থ সামরিক বৈমানিক হলেন—জাভেদ সালেহি, আব্দুলমাজিদ দাসতিয়ান এবং ওমরান বেহরাভেসিয়ান। জেনারেল বাঘেরজাদেহ রেডক্রসকে পাঠানো চিঠিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত ছয় মাস ধরে কাতার প্রশাসন তাঁদের কোনো গোপন সামরিক আস্তানায় বন্দি করে রেখেছে। এই সময়ে তাঁদের পরিবারের সদস্য কিংবা কোনো কূটনৈতিক প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করা তো দূরের কথা, কোনো ধরনের যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের কঠোর জবাব হিসেবে কাতারের দোহায় অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদে (Al-Udeid) আকস্মিক বিমান হামলা চালায় ইরান। ওই মিশনে ইরানের দুটি রাশিয়াভিত্তিক সুখোই-২৪ বোমারু বিমান অংশ নেয়। তবে কাতার ও মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার আঘাতে দুটি বিমানই ঘটনাস্থলে ভূপাতিত হয়।
ঐতিহাসিক মিশনটিতে দুটি বিমানে মোট চারজন বৈমানিক দায়িত্বরত ছিলেন। দুর্ঘটনার পর গত মার্চ মাসের শুরুতে চার বৈমানিকের একজন—মাজিদ কাজেমির মরদেহ কাতার থেকে ফিরিয়ে আনে ইরান সরকার। তবে বাকি তিনজন কাতালে নিহত হয়েছেন নাকি জীবিত আটক আছেন, তা নিয়ে দীর্ঘ দিন অনিশ্চয়তা বজায় ছিল। এবারই প্রথম তেহরান দাপ্তরিকভাবে স্পষ্ট করল যে তাঁদের তিন বৈমানিক সুরক্ষিত ও জীবিত অবস্থায় কাতার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন।



