― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

টেকসই উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জাপানের বৃহত্তর সহায়তা চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেকসই উন্নয়ন খাতে টোকিওর সার্বিক সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বুধবার রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত সপ্তম বাংলাদেশ-জাপান ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং জাপানের পক্ষে দেশটির সিনিয়র ডেপুটি ফরেন মিনিস্টার নামাজু হিরোইউকি নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বহু বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ বা কৌশলগত অংশীদারত্ব আগামীতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর হলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিগ-বি (BIG-B) উদ্যোগের অধীনে মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা মেট্রো রেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে জাপানের সহায়তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব।

বৈঠকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হয়। জাপানে বাংলাদেশের ‘নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী’ (Specified Skilled Workers) নিয়োগের সুযোগ বাড়ানোসহ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সুশীল সমাজের পারস্পরিক বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রস্তাব করে বাংলাদেশ। এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা বিনিময় দুই দেশের জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক বোঝাপড়া ও রূপান্তরের পথ সুগম করবে বলে আসাদ আলম সিয়াম আশা ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব স্পষ্ট জানান, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখেরও বেশি নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিপুল মানবিক ও আর্থ-সামাজিক চাপের মুখে রয়েছে। এসব রোহিঙ্গার নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, সম্মানজনক এবং টেকসই প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। মানবিক কার্যক্রমে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

জাপানের সিনিয়র ডেপুটি মিনিস্টার নামাজু হিরোইউকি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক স্থাপিত বাংলাদেশ-জাপান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তির কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বৈঠকে জাপানের ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয়’ (FOIP) ভিশনের বিস্তারিত রূপরেখা উপস্থাপন করেন। এছাড়া ইপিএ, বিগ-বি এবং অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) কাঠামোর অধীনে জাপানের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সম্প্রতি বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি টহল জাহাজ হস্তান্তরকেও স্বাগত জানান তিনি।

বৈঠকে জাপানি প্রতিনিধি দল জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আমন্ত্রণ পৌঁছে দেয়। একই সাথে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জাপান সফরের নিমন্ত্রণ জানান নামাজু হিরোইউকি। অপরদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। দুই দেশের পরবর্তী এফওসি বৈঠক ২০২৭ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত হবে।