বাংলাদেশ সরকারের পলিসি সংস্কার ও মার্কিন বিনিয়োগকারীদের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে তরান্বিত করতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশ (আমচাম)-এর নীতি নির্ধারণী আলোচনা সভা। ‘অ্যাক্সিলারেটিং বাংলাদেশ’স ডিজিটাল ফিউচার: পলিসি প্রায়োরিটিজ ফর ইনোভেশন, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড আইসিটি-লেড গ্রোথ’ শীর্ষক এই নীতি সংলাপটি রোববার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। আমচাম সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং আইসিটি সাব-কমিটির চেয়ার ও অরাকলের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে আমচাম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা আইন (পিডিপিএ) অনুমোদন এবং নতুন অর্থ আইনে ফ্রিল্যান্সার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কর ছাড় এবং কম্পিউটার ও সেমিকন্ডাক্টর উপাদানে শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার ভিত্তিক ডিজিটাল স্থায়ী স্থাপনা বিধানের স্পষ্টীকরণ, ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার কর ১.৫ শতাংশ থেকে পুনর্বিবেচনা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করার দাবি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেহান আসিফ আসাদ তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য সরকারের ৫টি অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য তুলে ধরেন: ৫ বছরের ধারাবাহিক কর নীতি ও সিম ট্যাক্স প্রত্যাহার, এস্তোনিয়ার এক্স-রোড প্ল্যাটফর্মের আদলে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ চালু, প্রতি বছর প্রকৌশল ও বিজ্ঞান গ্র্যাজুয়েটদের এআই ও সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ করে তোলা, পোশাক খাতের মতো ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে বিশেষ প্রণোদনা এবং ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রডব্যান্ডের ১০ শতাংশ অগ্রগতি জাতীয় জিডিপিতে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যুক্ত করে।
মুক্ত আলোচনায় সিটিব্যাংক এন.এ, সিসকো, এইচএসবিসি, মাস্টারকার্ড, মেটলাইফ, পাঠাও, পিডব্লিউসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, শপআপসহ আমচামের সদস্যপ্রতিনিধিরা মেট্রো ও টোলে ওপেন-লুপ টিকিট, বাংলা কিউআর ও পেমেন্ট নেটওয়ার্ক উন্মুক্তকরণ, ব্যাংকিং খাতে পাবলিক ক্লাউড ব্যবহারের অনুমতি এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। উপদেষ্টা জানান, দেশের ব্যান্ডউইথ চাহিদা ১২ টেরাবাইটে পৌঁছালেও সাবমেরিন ক্যাবল সক্ষমতা মাত্র ৬ টেরাবাইট, যা দ্রুত বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চতুর্থ ত্রৈমাসিকে জাতীয় এআই নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সমাপনী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আমচামের সহ-সভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা উদ্দিন আহমেদ। এতে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল সিসকো।



