দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম ভাসমান বাজার ঝালকাঠির ভীমরুলী পেয়ারার হাট ঘুরে দেখলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। দক্ষিণ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ভাসমান খালের জীবনযাত্রা স্বচক্ষে দেখতে রোববার সকাল ৯টার দিকে তিনি সেখানে পৌঁছান।
ভীমরুলী হাটে পৌঁছালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাওছার হোসেন ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর ছোট ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে পুরো ভাসমান হাটের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান।
নৌ ভ্রমণকালে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ভীমরুলীর বিখ্যাত স্থানীয় পেয়ারার অনন্য স্বাদ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি নদীর খালে ঘুরে ঘুরে চাষিদের সরাসরি ডিঙ্গি নৌকা থেকে পেয়ারা বেচাকেনার পদ্ধতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। সবুজে ঘেরা খালের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও দক্ষিণ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক রূপ দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ভীমরুলী ভাসমান হাটে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রলারযোগে পাশের জেলা পিরোজপুরের আটঘর কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এই ভ্রমণসূচিতে তাঁর সাথে ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ।
ভ্রমণ শেষে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি জানান, ভীমরুলীর মনোরম জলপথ এবং ভাসমান পেয়ারার হাটের চমৎকার অভিজ্ঞতা তিনি ভীষণ উপভোগ করেছেন। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রকৃতি ও মানুষের অতিথিপরায়ণতা তাঁকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরিশালের সংযোগস্থলে এই ভাসমান হাটে হাজার হাজার টন পেয়ারা বেচাকেনা হয়। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে।



