― Advertisement ―

বাহরাইনকে কঠোর সতর্কবার্তা দিল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের সর্বাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাহরাইনকে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান জানিয়েছে, দেশটি যদি ইরানবিরোধী কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তেহরান তার আরও কঠোর ও বিধ্বংসী জবাব দেবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়াতি দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কঠোর বার্তা দেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাহরাইন প্রশাসনকে সতর্ক করে আলী আকবর বেলায়াতি বলেন, “এটি বাহরাইনের জন্য আমাদের শেষ ও অত্যন্ত কঠোর সতর্কবার্তা। মানামার (বাহরাইনের রাজধানী) উচিত নিজেদের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ধরনের বিপজ্জনক খেলা তাদের বন্ধ করা উচিত এবং ইরানকে কোনো চরম বা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা মোটেও সমীচীন হবে না।” তবে বাহরাইনের সুনির্দিষ্ট কোন উসকানিমূলক পদক্ষেপের কারণে তেহরান এই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, সে বিষয়ে বেলায়াতি তাঁর বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো খতিয়ান উল্লেখ করেননি।

প্রকৃতপক্ষে, গত শুক্র ও শনিবার (২৬ ও ২৭ জুন) বাহরাইনে মোতায়েনকৃত মার্কিন নৌবাহিনীর কৌশলগত প্রধান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। তেহরানের সামরিক নীতিনির্ধারকদের দাবি, ইরানের মূল ভূখণ্ডে মার্কিন বিমান হামলার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আরব দেশে থাকা তাদের সামরিক ও নৌঘাঁটিগুলো সরাসরি ব্যবহার করছে। যদিও বাহরাইনসহ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (GCC) দেশগুলো ইরানের এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে বাহরাইন সরকার ইরানের এই সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এই আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

এই হামলার দায় স্বীকার করে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) গতকাল রোববার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সার্বভৌমত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি আক্রমণের সরাসরি পাল্টা জবাব হিসেবেই বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে এই সুনির্দিষ্ট অপারেশন চালানো হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক আগ্রাসনের এর চেয়েও ‘কড়া ও মারাত্মক জবাব’ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চলমান সর্বাত্মক যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছিল। তারপর থেকে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় ও বিপজ্জনক সামরিক ঘটনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক যৌথ বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে এই সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনের জন্য দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকদের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলমান রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তবে শান্তি আলোচনার সমান্তরালেই যুদ্ধ বন্ধের স্মারকে সই হওয়া শর্তাবলি লঙ্ঘনের অভিযোগ দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার এনে চলেছে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।