― Advertisement ―

রাশিয়ার প্রলয়ঙ্কারী ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ ১৪ জন আহত

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর ওডেসায় রাশিয়ার চালানো সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার ভোরে কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী এই শহরটিতে চালানো ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরুতে ১০ জন আহতের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। আহতদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে, যা যুদ্ধের অমানবিক রূপকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। হামলায় মূলত ওডেসার বন্দর অবকাঠামো এবং ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

রাশিয়ান ড্রোনগুলো ওডেসার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্রিমোরস্কি ডিস্ট্রিক্টে সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের প্রধান সেরহি লিসাক জানিয়েছেন, হামলায় একটি ২৩ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন, বেশ কিছু ব্যক্তিগত বাড়ি এবং একটি হোটেল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কার্গো টার্মিনালের ভেতরে একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন আঘাত হানলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিস এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো সারা রাত কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ড্রোনের আঘাতে ছিটকে আসা ভাঙা কাঁচ ও শেলের (Shrapnel) আঘাতে জখম হয়েছেন। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপার জানিয়েছেন, হামলায় বেশ কিছু গাড়ি ও গুদামঘর ভস্মীভূত হয়েছে। শহরের বাণিজ্যিক ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বন্দর এলাকার রেললাইন ও বের্থ (Berth) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পণ্য পরিবহনে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছর পেরিয়ে এসে ওডেসার ওপর হামলার তীব্রতা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি ও সামরিক সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় ওডেসা সব সময়ই রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন- প্যাট্রিয়ট মিসাইল) সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন। ওডেসার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সম্মুখ সমরের পাশাপাশি বেসামরিক এলাকাগুলোতেও রাশিয়ার বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।