বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা নিরসনে এক অভাবনীয় প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ইরান এই কৌশলগত জলপথে তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে সম্মত হয়েছে। তবে এর বিনিময়ে তেহরানের ওপর আরোপিত সকল অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রস্তাবটি মূলত এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতময় পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে।
গোপন আলোচনার বিষয়ে অবগত কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের এই প্রস্তাবে কেবল হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচলের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। চমকপ্রদ তথ্য হলো, তেহরান তাদের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিকে এই আলোচনার আওতার বাইরে রাখার শর্ত দিয়েছে। অর্থাৎ, পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো আপস না করেই ইরান কেবল জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়ে নিজেদের পঙ্গু হয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে সচল করতে চাইছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা এই আলোচনাকে ‘সংবেদনশীল’ ও ‘কৌশলগত’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বর্তমানে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থান করছেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রাক্কালে তিনি জানান, এই সফর মস্কোর সঙ্গে গুরত্বপূর্ণ পরামর্শের একটি বড় সুযোগ। মূলত রাশিয়ার সমর্থনপুষ্ট হয়ে ইরান একদিকে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে, অন্যদিকে পশ্চিমের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে দরকষাকষির হাতিয়ার (Bargaining Chip) হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মস্কোর সাথে সমন্বিত হয়েই ইরান এই প্রস্তাবটি টেবিল পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে উত্তেজনা কমলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে—এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে। তবে পারমাণবিক ইস্যু বাদ দিয়ে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবে সাড়া দেবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের পর এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ না তুলে নেয়, তবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে পুনরায় বড় ধরনের অবরোধ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।



