ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক এএইচ-৬৪ (AH-64) অ্যাপাচি আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির কাছে গত সোমবার (৮ জুন, ২০২৬) এই ঘটনা ঘটে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত দুটি নির্ভরযোগ্য সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলেও এর ভেতরে থাকা দুই ক্রু সদস্যকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এবং নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন উদ্ধারকারী দল।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্তকারীরা কাজ শুরু করলেও হেলিকপ্টারটি ঠিক কীভাবে বিধ্বস্ত হলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার নিখুঁত গুলিতে ভূপাতিত হয়েছে, নাকি কোনো গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটি বা গভীর কারিগরি সমস্যার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে—সে বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধে তেহরানের যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ ও সমুদ্রসীমার নিয়ন্ত্রণ মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের বিশেষ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি এই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলোকে ইরানি আকাশসীমার কাছাকাছি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে মোতায়েন করা হচ্ছিল।
এদিকে মার্কিন হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, ক্রু সদস্যরা সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ আছেন। তবে ট্রাম্প এই সংবেদনশীল ঘটনার কৌশলগত ও সামরিক বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন এবং জানান যে, পেন্টাগন ও তদন্তকারীদের কাজের পর পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রধান শাখা ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড’ (CENTCOM) এখন পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা মন্তব্য করেনি।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক তীব্র সামরিক সংঘর্ষ এবং পরবর্তী কূটনৈতিক যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার টানাপোড়েনের মধ্যেই এই প্রতীকী ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই মার্কিন বাহিনীর প্রথম অ্যাপাচি হেলিকপ্টার হারানোর ঘটনা। এর আগে অবশ্য সংঘাত চলাকালে মার্কিন বাহিনী বেশ কিছু বড় ড্রোন ও এয়ারক্রাফট হারিয়েছে, যার মধ্যে তেহরান প্রায় ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে এবং শত্রুপক্ষের হামলা বা মিত্র বাহিনীর ভুলবশত গুলিতে (Friendly Fire) বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।



