― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

ঝালকাঠিতে হাম-রুবেলা নির্মূলের ডাক: ৬৬ হাজার শিশুর টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা

ঝালকাঠি জেলায় শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা হয়েছে। প্রাণঘাতী হাম ও রুবেলার প্রাদুর্ভাব রুখতে জেলায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন (এমআর) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে ঝালকাঠির স্থানীয় আব্দুল ওহাব গাজী শিশু বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়। শিশুদের একটি সুস্থ ও রোগমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার। তিনি ফিতা কেটে এবং শিশুদের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধতন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি শিশুদের টিকাদানে জনসচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৬৬ হাজার ৭০০ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বয়সসীমার প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ক্যাম্পেইনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে জেলা সদর হাসপাতাল এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এই সেবা প্রদান করা হবে। দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি শিশুকে এই টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

ঝালকাঠি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই টিকাদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হবে। কোনো শিশুই যেন এই জীবনরক্ষাকারী টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়েও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। মূলত যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে ঝরে পড়েছে (Drop-out), তাদের এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার জন্য বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। তিনি মনে করেন, সরকারের সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি যদি স্বাস্থ্য বিভাগের নিবিড় তৎপরতা অব্যাহত থাকে, তবে হাম-রুবেলার মতো সংক্রামক ব্যাধি দেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব হবে। তিনি এই কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, হাম ও রুবেলা কেবল শিশুদের আক্রান্ত করে না, এটি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই অভিভাবকদের উচিত কোনো ধরনের অবহেলা না করে নির্দিষ্ট বয়সের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে আসা। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি দলের নেতা-কর্মীদেরও এই স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কাজে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা নিউমোনিয়া বা অন্ধত্বের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে রুবেলার কারণে জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। এই দুই রোগ প্রতিরোধে এমআর টিকা সবচেয়ে কার্যকরী হাতিয়ার। ঝালকাঠির ৬৬ হাজার শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত হলে জেলায় এই রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

ক্যাম্পেইন সফল করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলস কাজ করছেন। উদ্বোধনী দিনেই বিপুল সংখ্যক অভিভাবককে তাদের সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে। টিকা দেওয়ার পর শিশুদের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে জরুরি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, ঝালকাঠির এই এমআর ক্যাম্পেইন কেবল একটি বার্ষিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্য রক্ষার একটি বড় সংগ্রাম। ড. জিয়া উদ্দিন হায়দারের এই কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলা এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ঝালকাঠি জেলা হাম-রুবেলা মুক্ত হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।