― Advertisement ―

এবার ঢামেকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

বরিশাল মেইল ডেস্কঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) একাডেমিক কাউন্সিলে এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ক্যাম্পাস ও হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ তদন্ত...

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্বেগ: বাড়ছে হামের প্রকোপ, হটস্পটে ঢাকা

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব চরম উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন মৃতদের মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ছয়জন এই রোগের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত প্রায় দুই মাসে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৮ জন এবং সন্দেহভাজন হামে ২৮৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আক্রান্তের সংখ্যাও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে; এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ৪৯০ জন নিশ্চিতভাবে এবং ৪৬ হাজার ৭১০ জন সন্দেহভাজন হিসেবে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩২ হাজারেরও বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্য কাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও ২৯ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবুও মৃত্যুর মিছিল থামছে না।

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগ এই মহামারীর হটস্পটে পরিণত হয়েছে। নিশ্চিত হামে মৃতদের মধ্যে ৩৮ জনই ঢাকা বিভাগের, আর সন্দেহভাজন মৃত্যুর ক্ষেত্রেও এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৩২ জন। চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং সিলেট বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে। তবে আশার কথা হলো, এখন পর্যন্ত রংপুর বিভাগে হাম বা এর উপসর্গ নিয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠছে, টিকাদান কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা নাকি ভাইরাসের নতুন কোনো ধরন এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

হামের এই ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে ১৫ লাখ টিকা আমদানি করেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান এবং আক্রান্তদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল টিকাদান নয়, বরং উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান আরও দীর্ঘ হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় ডেকে আনবে।